চট্টগ্রামে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাই হওয়া বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫৭টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের বিশেষ মেশিন ও সরঞ্জামাদি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২), মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল (৩৫), আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) ও সাইফুল ইসলাম (১৯)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর। তিনি জানান, প্রথমে হালিশহর থানা এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নন্দনকানন আবাসিক এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৪টি আইফোন, ১৩৩টি অন্যান্য ব্র্যান্ডের মোবাইল, ৫টি ল্যাপটপ, ২০১টি মোবাইল সিম কার্ড, ৪৪৫টি মোবাইলের কেসিং, মাইক্রোস্কোপ, মাল্টিপ্লাগ, বিভিন্ন চার্জার এবং আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন ও ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আসামিরা বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম মূল্যে চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করতো। এরপর উন্নত ডিজিটাল ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের আইএমইআই নম্বর ও কেসিং পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করতো। এতে করে অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা সহজে তাদের ফোন আর ট্র্যাক করতে পারতেন না।
গ্রেপ্তার আসামিরা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী। এদের মধ্যে মূলহোতা পার্টি সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ৮টি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি মামলা। এছাড়া সহযোগী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। চোর চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।