1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
কক্সবাজারসহ সারাদেশে ২০৮৯১ কারবারির আধিপত্য ২৮ এপ্রিল থেকে তীব্র লোডশেডিং কমবে, জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ১ দিনের সফরে শনিবার কক্সবাজার আসছেন পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার উখিয়ায় ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার উখিয়া থানার ‘মালখানা’ যেন টাকার খনি, কারবারিদের হাতেই যায় জব্দকৃত ইয়াবা ! কক্সবাজারে শিশু ধর্ষণ মামলার মূলহোতা সাজ্জাদ র‍্যাবের জালে আপনাদের পতন ঘটাতে আমরা বেশি সময় নেব না : ইসহাক সরকার শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিয়েছে সরকার : গোলাম পরওয়ার

কক্সবাজারসহ সারাদেশে ২০৮৯১ কারবারির আধিপত্য

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২৫/০৪/২০২৬ ১১:৫২ এএম

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতির পরও দেশ জুড়ে মাদকের ভয়াল বিস্তার। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামাঞ্চল সর্বত্রই মাদকের ছড়াছড়ি। সীমান্তবর্তী জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদকের চালান। পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এমনকি আনসার সদস্যরাও মাদকের চালান জব্দ করছেন। এর বাইরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও মাদক নিয়ে কাজ করছেন। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে একের পর এক চালান ঢুকছে দেশে। পরে সেগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অভিযানে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও যারা ধরা পড়ছেন তারা শুধু মাদকের বাহক। বড় কারবারি বা গডফাদাররা সবসময়ই অধরা থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতি বছরই একটি তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু ওই তালিকায় যাদের নাম আসে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ঘটনা তেমন চোখে পড়ে না। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারি, তাদের গফফাদার, নিয়ন্ত্রণকারী, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ পাচারকারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দেয়া তালিকায় রয়েছে ১৯ হাজার ৪৫ কারবারির নাম। বিজিবি’র তালিকায় ৩ হাজার ৯৬৪ জন।

এ ছাড়া আরও চারটি সংস্থা মাদক কারবারিদের তালিকা জমা দিয়েছে, যার একটি তালিকায় ২০ হাজার ৮৯১ জনের তথ্য উঠে এসেছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দেশ জুড়ে তিন পর্যায়ে মাদকের সঙ্গে জড়িত আছেন ২০ হাজার ৮৯১ জন। তারাই দেশ জুড়ে মাদকের ভয়াল বিস্তার করছেন। এরমধ্যে ১ হাজার ৬২০ জন গডফাদার রয়েছেন। তারা মূলত মাদক উৎপাদনকারী দেশ থেকে মাদকের চালান দেশে নিয়ে আসার কাজ করেন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মাদকের পাইকারি বিক্রেতা রয়েছেন ৬ হাজার ২২৭ জন এবং খুচরা কারবারি ১৩ হাজার ৪৪ জন। প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৩০৯ জন গডফাদার রয়েছে। এরপর রাজশাহীতে ২৭৩, রংপুরে ২৩৭, ঢাকায় ২৩১, খুলনায় ২২৮, বরিশালে ১১৭, ময়মনসিংহে ১১৫ এবং সিলেটে ১১০ জন গডফাদার রয়েছে। পাইকারি কারবারির মধ্যেও শীর্ষে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪২৭ জন।

এরপর রাজশাহীতে ১ হাজার ২৩৭ জন, ঢাকায় ১ হাজার ১০২ জন, রংপুরে ৬৬৬ জন, খুলনায় ৬৩৪ জন, ময়মনসিংহে ৪৮১ জন, সিলেটে ৩৬০ এবং বরিশালে ৩২০ জন। খুচরা কারবারেও চট্টগ্রাম শীর্ষে ২ হাজার ৮২৮ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ হাজার ৫৩৯, ঢাকায় ২ হাজার ৪৮৯, খুলনায় ১ হাজার ৯৮২, ময়মনসিংহে ৯৮৩, রংপুরে ৯৫৪, সিলেটে ৬৪৮ ও বরিশালে ৬২১ জন খুচরা কারবারি সক্রিয় রয়েছে। র‌্যাবের তালিকায় ৩ হাজার ৭৬ মাদক কারবারি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব-২ এলাকায় সর্বোচ্চ ৫৬৫ জন এবং সর্বনিম্ন র‌্যাব-৪ এলাকায় ৫৩ জন। এ ছাড়া র‌্যাব-১ এ ২২২ জন, র‌্যাব-৩ এ ১৩৮ জন, র‌্যাব-৫ এ ৩২৮ জন, র‌্যাব-৬ এ ১২৯ জন, র‌্যাব-৭ এ ১২৩ জন, র‌্যাব-৮ এ ৩৬৯ জন, র‌্যাব-৯ এ ১২৭ জন, র‌্যাব-১০ এ ৬৪ জন, র‌্যাব-১১ এ ৪৮ জন, র‌্যাব-১২ এ ৩৮২ জন, র‌্যাব-১৩ এ ১৬৬ জন, র‌্যাব-১৪ এ ২৯৪ জন এবং র‌্যাব-১৫ এ ৮৮ জন রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলাকে মাদক কারবারের বিশেষ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টেকনাফে সক্রিয়দের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার মো. নুর (বার্মাইয়া নুর), জাহেদ হোসেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের এখলাছ মিয়ার ছেলে হারুন অর রশিদ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের জহির আহমেদের ছেলে ফয়েজ আহমদ, শাহপরীর দ্বীপের জিয়াবুল হক (জিয়া), সাবরাংয়ের জাফর আলম, জালিয়াপাড়ার দিদারুল আলম, হ্নীলা বাজার পাড়ার সামসু মিয়াসহ আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজন। কক্সবাজার জেলায়ও সক্রিয় রয়েছেন ঝিলংজা ইউনিয়নের সামছুন্নাহার, উত্তর টেকপাড়ার মো. হাসান, উত্তর নুনিয়ারছড়ার জহুরুল ইসলাম (ফারুক), নুরুল আলম (বাবু), আবুল কালাম, সৈয়দ আলম, বশির আহমদ, আবদুল গফুর, রাশেদুল ইসলাম, আবু জাফর আনসারী, শাহজাহান আনসারী, রশিদ আনসারী, মিয়ানমারের নাগরিক আবু নফর (বার্মাইয়া নফর), মো. ইমাম শরীফ, মঞ্জুর আলম (শিয়াল মঞ্জুর), হারুনুর রশিদ লিটন, আবদুর রহমান প্রমুখ।

কক্সবাজারের পরই মাদক কারবারের অন্যতম জেলা কুমিল্লা। সীমান্তপথ ব্যবহার করে গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার হয়। কুমিল্লায় সক্রিয়দের মধ্যে রয়েছেন ধর্মপুর কলেজপাড়ার আশিক (বোমা আশিক), আবুল কাশেম, মথুরাপুরের মিজান, নুর ইসলাম (নুরু মিয়া), মো. কাশেম, মো. শফিক মিয়া, হুমায়ুন, বিল্লাল, মো. বাপ্পি, সুজন মিয়া, মোতালেব, মো. ইব্রাহিম খলিল (সজল), মো. সুমন আহম্মেদ, মো. মামুন, সিরাজ মিয়া, মো. ইকবাল হোসেন। রাজশাহীতে গডফাদারের মধ্যে রয়েছেন গোদাগাড়ীর শিস মোহাম্মদ, টিপু, মো. তোফাজ্জল হোসেন, নওশাদ আলী, আবদুল্লাহ, জিয়ারুল ইসলাম, সেতাবুর রহমান বাবু, মোসা. আজিজা বেগম, মীরগঞ্জের মো. ইদ্রিস মোল্লা, ইয়াদুল (ইদুল্লা), আবদুল আলিম (কালু), মো. মিলন। সিলেট বিভাগের মাদক নিয়ন্ত্রণ ৩৪ গডফাদারের হাতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের আবদুল মান্নান, জকিগঞ্জের আবদুল কাদির, মো. মুকিত, তাজউদ্দিন তাজুল মেম্বার, জহিরুল হক, আসুক আহমেদ আশিক, শরীফ আহমেদ তফাদার, জয়নার উদ্দিন। হবিগঞ্জের মাধবপুর সুয়াগাঁওয়ের ফুয়াদ হাসান সাকিব, ধর্মঘরের খোকন মিয়া, মামুন মিয়া। কিছুদিন আগে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাকিব।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সক্রিয়, পেশাদার এবং গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেই বড় বড় মাদকের চালান নিয়মিতভাবে আটক হচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।

গডফাদার নিয়ে বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি সংগঠিত ও বহুমাত্রিক অপরাধচক্র, যার বিস্তৃতি অনেক ক্ষেত্রে সীমান্তের বাইরেও রয়েছে। বিজিবি আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব নেটওয়ার্ক শনাক্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৯২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। মাদক পাচাররোধে বিজিবি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে সীমান্তে দৃশ্যমান ও র‌্যান্ডম টহল জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা, সীমান্তবর্তী অধিক চোরাচালান প্রবণ রুটসমূহ চিহ্নিত করে সে সব এলাকায় নিয়মিত ও অধিক হারে অভিযান পরিচালনা। ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে নজরদারি সক্ষমতা উন্নয়ন। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র?্যাবসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, আমরা অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া থাকে। প্রধান কার্যালয় থেকে সেগুলো তদারকি করা হয়। গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। স্থানীয়ভাবে অনেককে মাদকের গডফাদার বলা হয়। নামে-বেনামে অনেক সম্পদ থাকার অভিযোগ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এরকম কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না। ওই ব্যক্তিকে মাদক বহন ও তার কাছে মজুত রাখতেও পাওয়া যায় না। তবে অস্বাভাবিক লেনদেন বা অন্য চ্যানেলে যখন তার কিছু সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তখনই ব্যবস্থা নেয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডিএনসি কয়েকটি মানি লন্ডারিং মামলা করেছে।

তথ্যসূত্র দৈনিক মানবজমিন

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com