কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, দেশীয় তৈরি গান, ম্যাগাজিন, গুলি এবং ৪৩ হাজারেরও বেশি ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা অপরাধীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোররাতে উখিয়ার লম্বাশিয়া ১-ইস্ট এবং টেকনাফের উনচিপ্রাং ২২ নম্বর ক্যাম্পে পৃথকভাবে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করে র্যাব-১৫ এবং ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
উখিয়ায় বিদেশি পিস্তল ও ইয়াবাসহ আটক ৩:
১৪ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, উখিয়ার লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১৫ ব্লকের একটি বসত ঘরে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা ইয়াবার একটি বড় চালান লেনদেন হচ্ছে। খবর পেয়ে এপিবিএনের একটি দল ওই ঘরটি ঘিরে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৫-৬ জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— মো. জাহিদ হোসেন (৩৮), নুর সেহেরা (১৮) (মতান্তরে নুর হোসেন) এবং আব্দুল হামিদ (৩২)। পরে তাদের দেহ ও ঘর তল্লাশি করে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ২৭ রাউন্ড গুলি এবং ৪৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এ.ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে মাদক ও অস্ত্রপাচার ঠেকাতে এপিবিএনের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
টেকনাফে ওয়ান শুটারগানসহ চিহ্নিত রোহিঙ্গা অপরাধী আটক:
এদিকে একই দিন ভোর ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে মো. আমিন (৩৮) নামে এক অস্ত্রধারীকে আটক করেছে র্যাব-১৫। আটক আমিন ওই ক্যাম্পের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে (এফসিএন নম্বর ২৪৮৮৩০)।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমিনের হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিন স্বীকার করেছে যে, ক্যাম্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে অস্ত্রটি নিজের কাছে রেখেছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অস্ত্র আইনে র্যাবের দেওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ক্যাম্পে বাড়ছে উদ্বেগ, জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা:
সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অস্ত্রের বিস্তার, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সংঘাত ঠেকাতে নিয়মিত এবং বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।