1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
এবার শিবির নেতার রুমে বহিরাগতদের ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক, ভিডিও ভাইরাল তরুণীর বাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতা আটক ২০ বছর ধরে মৃত মহিউদ্দিনের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে নাশকতা মামলায় ৭ জন গ্রেপ্তার, জব্দ মাইক্রোবাস জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতের রোকন গ্রেপ্তার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেল স্টেশন: প্রতিমন্ত্রী (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতার আপত্তিকর কথোপকথন ভাইরাল, হারালেন পদ ঢামেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস দুবাই কারাগার থেকে যেকোনো সময় দেশে ফিরছেন বেনজীর!

দুবাই কারাগার থেকে যেকোনো সময় দেশে ফিরছেন বেনজীর!

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ০১/০৮/২০২৬ ১:০৬ পিএম

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে বন্দি আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার বিষয়ে দেশটির সরকার নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মুখপ্রাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।

যেসব মামলার কারণে মি. আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল, সেগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে দুবাই পুলিশ। এ দফায় বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কিত আরও বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর দফতরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘মামলাগুলো যেহেতু দুদক দেখছে, সেজন্য তাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারাই তথ্য-উপাত্তগুলো প্রস্তুতের কাজ করছে।’

দুবাই পুলিশের চাওয়া যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘তারপর সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোল হয়ে নথিপত্রগুলো দ্রুতই দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নথিপত্র ঠিকঠাক মতো সরবরাহ করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো ‘খুব একটা কঠিন হবে না’।

কিন্তু ভারত এবং থাইল্যান্ড ব্যতীত অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন চুক্তি নেই। ফলে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে কোন প্রক্রিয়ায় ঢাকায় ফেরত আনা হবে, ঘুরে ফিরে সেই প্রশ্ন বার বার সামনে আসছে।

আইনজীবীরা বলছেন, সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।

সেগুলো হলো: অপরাধের বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, দু’দেশের আইনের সামাঞ্জস্যতা, আদালতে তথ্য উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলেন, ‘মূলত এই চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সময় নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের পনেরই এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইজিপির পদ থেকে অবসর নেওয়ার বছর দুয়েক পরে স্থানীয় গণমাধ্যমে মি. আহমেদের দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়, যা নিয়ে তখন বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এ ঘটনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। সেগুলো নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করার এক পর্যায়ে সাবেক এই আইজিপি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের এক আদেশের প্রেক্ষিতে মি. আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয় ঢাকার একটি আদালত।

তার নামে অর্ধ ডজনের বেশি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর আরেকটি মামলার বিচার কাজ চলছে।

মূলত ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রমে আরো গতি পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয় এবং গত ১২ই জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেফতার করে সেখানকার পুলিশ।

অগ্রগতি কতদূর?

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র সংগ্রহ শুরু করেছে দুবাই পুলিশ।

কর্মকর্তারা বলছেন, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

এর বাইরে, তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায়ও তদন্ত চলছে।

এগুলোর মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ এবং পাসপোর্ট জালিয়াতি’র মামলায় সাবেক আইজিপি’র বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন দুদক কর্মকর্তারা।

গ্রেফতারের খবর জানার পর প্রথম দফায় দুবাই পুলিশের কাছে ১৪৪ পৃষ্ঠার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠায় বাংলাদেশ সরকার।

আরবি ও ইংরেজি- এই দুই ভাষায় পাঠানো ওইসব নথিপত্রের মধ্যে মামলার বিবরণ, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে দুদক। দ্বিতীয় দফায় প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আরও বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

আইনজীবী মিজ আফরিন আরও বলেন, ‘এরপর যে বিষয়টি দেখা হবে, সেটি হলো: যে অপরাধটি বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে, সেটাকে ইউএই-তেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় কি-না’।

সেইসঙ্গে, সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কি-না, ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এরপর বিষয়টি আদালতে তোলা হবে। সেখানে বাদী-বিবাদী, উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।

তবে রায় চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সুত্র, বিবিসি

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com