চট্টগ্রাম কলেজের গণিত বিভাগে প্রথম বর্ষে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার সুযোগ পাননি মো. আবু আবদুল্লাহ। পরে ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়ে এবার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত উপজেলা উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তিনি। তাঁর এই পদায়নের পর প্রশ্ন উঠেছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে তাঁর একাডেমিক প্রস্তুতি, পেশাগত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও প্রশাসনিক সক্ষমতা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান আবু আবদুল্লাহ। কিন্তু এরপর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পেরে পরের বছর চট্টগ্রাম কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখানেও প্রথম বর্ষে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার সুযোগ পাননি তিনি। এতে তাঁর শিক্ষাজীবনে দুই বছর পিছিয়ে যায়।
প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম বর্ষে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া একজন কর্মকর্তাকে উখিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর একাডেমিক ও পেশাগত সক্ষমতা কতটা যাচাই করা হয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণী দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতিও কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে?
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি, পর্যটন, মাদক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারি ভূমি দখলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ঘিরে উখিয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এমন একটি উপজেলার ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের জন্য আবু আবদুল্লাহর মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
আবু আবদুল্লাহ এর আগে বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নেজারত, সার্বিক ও সাধারণ, লাইসেন্স এবং জেএম শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বান্দরবানে এসব দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা উখিয়ার ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের জন্য কতটা যথেষ্ট, সে প্রশ্নও উঠেছে।
একাডেমিক জীবনের ওই রেকর্ডের পর প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে তাঁর কর্মদক্ষতা, পেশাগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব কীভাবে বিকশিত হয়েছে এবং উখিয়ার মতো বিশেষায়িত উপজেলার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের মো. আবু আবদুল্লাহ ২০১০ সালে চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি ডা. মজহারুল হক হাইস্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৯ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ৩ দশমিক ১১ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত কুলগাঁও সিটি করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবেও কিছুদিন কর্মরত ছিলেন।
উখিয়ার এসি ল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব প্রয়োগই এখন মূল বিবেচনার বিষয়। একই সঙ্গে তাঁর অতীত একাডেমিক রেকর্ড ও প্রশাসনিক সক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেই এই পদায়ন করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে! সূত্র: বার্তাবাজার