দলের নেতা-কর্মী ও সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো নেতা-কর্মী, এমপি-মন্ত্রী কেউ কোনো অপকর্মে জড়ালে তাঁকে বা তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ রোববার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমান এমন কঠোর বার্তা দেন বলে জানা গেছে। সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক সংসদ সদস্য জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার গঠনের পর আট মাসে কী কী কাজ হয়েছে, কোন কাজের অগ্রগতি কতটুকু এবং কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে-এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার সমস্যার বিষয়েও সংসদ সদস্যদের কথা শুনেছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করে এক সংসদ সদস্য বলেন, সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী কাজ হয়েছে, সেসব কাজের অগ্রগতি কতটা এবং বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও মানুষের প্রত্যাশার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সম্পর্কে জানতে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই আলোচনা হয়েছে বলে জানান ওই সংসদ সদস্য।
সভার বিষয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে জনপ্রিয় এবং যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে।
তার ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভোট নিরপেক্ষ করতে হবে। কারচুপির অভিযোগে কাউকে কোনো ইস্যু সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।
সভা শেষে কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেছেন, সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। জনগণের সঙ্গে থাকেন, জনগণের সঙ্গে কাজ করেন, জনগণের জন্য কাজ করেন। যাতে জনগণ সন্তুষ্ট থাকে। দলের সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।