কারাগারে গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে কারারক্ষীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত ও তারেক সাঈদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন এই আইনজীবী।
এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ঠিক করেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ প্রসঙ্গে তারেক সাঈদের আইনজীবী মাহমুদুল হুসাইন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় গত ১০ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর তারেক সাঈদকে ফের আদালতে হাজির করলে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। একই দিন গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে হঠাৎ তার ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান কয়েকজন রক্ষী। লাঠি দিয়ে আঘাত করায় মাথায় আঘাত পান তিনি। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও তাকে ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। এছাড়া হামলার সময় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
এই আইনজীবী বলেন, হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত ও চিকিৎসা চেয়ে আদালতের কাছে আমরা একটি আবেদন করেছি। এ নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আগামীকাল এ আবেদনের ওপর আমরা শুনানি করবো।
কুমিল্লা-লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতাদের গুম-খুনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় আজ সকালে কারাগার থেকে তারেক সাঈদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এসব মামলায় আসামির তালিকায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নামও রয়েছে।
এদিন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও নতুন করে দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। পরে আগামী ৩০ নভেম্বর এ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করা হয়। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।