পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কূপ খননের কাজ চলছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশে গ্যাসের অনেক উৎস রয়েছে। সরকার এসব উৎস কাজে লাগাতে চায়। এ লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।তিনি বলেন, সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে এ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল রয়েছে। এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জাহাজ নির্মাণশিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দরগুলোর সঙ্গে দেশের উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাও জরুরি।
তিনি জানান, আইইউবি ও বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র এ বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।