যেখানে দেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে কক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসী কায়দায় এক সংখ্যালঘু বৃদ্ধকে পিটিয়ে দোকান থেকে বের করে দিয়ে জলন্ত উনুনে ঘি ঢেলে দিলেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের অর্থ জোগানদাতা গফুর নামের এক ব্যক্তি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ পৌর শহরের হোটেল দ্বীপ প্লাজা মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে অভিযুক্ত গফুর বিষয়টি ধামাচাপা জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করতে মোটা অংকের মিশনে নেমেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভূক্তভোগীর ছেলে সুপন পাল।
টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ি কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম জানান, এর আগে বিষয়টি দুই দফা সমাধানের চেষ্টা করেছি। গফুরের উগ্রতার কারনে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। মার্কেটের সব দোকান বাদ দিয়ে একজন হিন্দু মালিকের দোকানে তালা দেওয়ার বিষয়টি জগন্য সংখ্যালঘু নির্যাতন।
দ্বীপ প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী দিদার হোসেন বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা এই মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ চার মাস আগে মার্কেটে মালিক পক্ষ দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং ভাড়াও গ্রহন করছে না। বাধ্য হয়ে আমরা ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। পরে বিষয়টি আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে এবং আদালতের নিকট ভাড়া প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যদিও চুক্তি নামায় দোকানের চুক্তি শেষ হলে চুক্তি নবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ দুপুরে মার্কেট মালিক পক্ষের গফুর নামের এক ব্যক্তি সন্ত্রাসী কায়ায়দায় তার ভাতিজা ও এমপি বদির ভাগ্নি জামাই আরমানকে সাথে নিয়ে সংখ্যালঘু এক বৃদ্ধ দোকানদারকে তার ছেলের অনুপস্থিতিতে মারধর করে টেনে হেছড়ে দোকান থেকে বেরকরে দিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্ষোভ জানিয়েছেন।
দোকান মালিকদের অভিযোগ, দোকান ছেড়ে দিতে বাধ্য করতে ৩ মাস ধরে দোকানের সামনে ইট-বালি স্তুপ জমিয়ে ব্যবসায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে গফুর। বিষয়টি বলতে গেলে আরো সন্ত্রাসীদের ভয় দেখায়।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত গফুরের মুটোফোনে কল করেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, গফুর বিগত সময়ে বিতর্কিত সাংসদ বদি সমর্থিত স্থানীয় আওয়ামীলীগের ‘প্রবাসী অর্থ যোগানদাতা’দের অন্যতম ছিলেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নুর জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ফৌজদারী অপরাধের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর উপর হামলা ও এই সংকট উত্তরণে যদি প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে, ঘটনা মোড় নিতে পারে ভিন্ন দিকে। তাই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মন্তব্য করেন ব্যবসায়ি সমিতির নেতারা।