1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
তাবিজের কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার মুছে ফেলেছিলেন আসল পরিচয়, একটি ভুলই তার ছদ্মবেশের অবসান ঘটে জিয়ার খুনি মোজাফফরের রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা চকরিয়ার বন্যকবলিত এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী/ সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম অস্ত্রসহ আটকের পর যুবদল নেতা আয়াত উল্লাহ হুমাইনী বহিষ্কার ইষ্ট বেকারের জ্যাম-ফিল্ড ব্রেডে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিক্রি বন্ধের নির্দেশ অভিযানের তথ্য ফাঁস করায় সোর্সকে কারাদণ্ড জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনক্ষোভের বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি

হাসিনার ফাঁসির রায় চায় শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারগুলো

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৫ ৬:৫৬ পিএম

মানববতাবিরোধী ও গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিনক্ষণ ঠিক হচ্ছে আজ। হাজার হাজার স্বজনহারা শহীদ পরিবার, পুরো জাতি গুম, খুনের নির্দেশদাতা, গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড হাসিনার ফাঁসির রায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুধু চব্বিশের গণহত্যা নয় বিগত হাসিনা যুগের সকল কার্যক্রমের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চায় দেশের মানুষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন ধার্য হবে।

গণহত্যার পূর্ণ সত্যতা প্রকাশ হয়েছে। এমন খবরে জুলাইসহ বিগত ১৭ বছর যারা নির্যাতিত হয়েছেন, শহীদ পরিবার রয়েছেন তাদের মধ্যে আনন্দের বার্তা বয়ে যাচ্ছে। নির্যাতিত ব্যক্তিরা বলছেন, হাসিনাকে এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে আগামীতে কোনো সরকার বা রাজনৈতিক ব্যক্তি যাতে ক্ষমতার স্বার্থে জনগণের বুকে গুলি চালাতে অনেকবার ভাবে, হাসিনার ফাঁসির রায়ের মধ্যেই যেন ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।
শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলুন মাকমিন জনকণ্ঠকে বলেন, আজ ১৪ মাস হয়ে গেল এখনো কেন হাসিনাকে ভারত থেকে এনে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো না। আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমাদের সন্তানদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে জনসম্মুখে। সন্তান হারানোর ক্ষত নিয়ে ১৪ মাস পার করেছি। প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা সেকেন্ড শুধু গুনতেছি কখন হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখতে পাব। শুনতে পাচ্ছি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আজকের রায় হতে পারে। আমি শহীদ জাফরের মা প্রত্যাশা করব হাসিনাকে যেন ফাঁসির রায়ে দ-িত করা হয়। এবং অতি দ্রুত সেই রায় কার্যকরের সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আমাদের সন্তান হত্যার বিচার নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে যেন কাজ করে সেই প্রত্যাশা করব।

শহীদ নাজমুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, আমার ভাই খুবই নিরপরাধ ছিল, খুব রাজনীতি বুঝতো না। জুলাইয়ে এদেশের মানুষকে যখন পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে তখন আমার ভাই সাধারণ একজন মানুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে দাঁড়ায়। স্বৈরাচার হাসিনার নির্দেশে আমার ভাইকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের শরীরের একপাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে রক্তখেকো হাসিনা শাসকের ফাঁসির রায় এবং ফাঁসি কার্যকর যদি না দেখে যেতে পারি আমরা মরেও শান্তি পাব না। শুধু আমি কেন আমার মতো শত শত, হাজার হাজার শহীদ পরিবার বাংলার কসাই হাসিনার ফাঁসির রায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। যারা সন্তান হারিয়েছেন, স্ত্রী হারিয়েছেন। স্বামী হারিয়েছেন, ভাই হারিয়েছেন তারা বুঝেন স্বজন হারার যন্ত্রণা কত কঠিন। যে চলে গেছে তাকে আর পাওয়ার সুযোগ নেই।

কিন্তু যে গণহত্যার মাস্টার মাইন্ড, নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা স্বজন হারিয়েছি এখন আমাদের একটাই প্রত্যাশা আমরা যেন আপনজন হত্যার বিচার দেখে যেতে পারি। আজ হাসিনার ফাঁসির রায় হবে। আমরা চাই হাসিনাকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যাতে আর কেউ নিরপরাধ মানুষকে খুন করতে সাহস না পায়। রাজনৈতিক ক্ষমতায় কেউ যাতে অন্ধ হয়ে এভাবে আর গণহত্যা চালানোর সাহস করতে না পারেন।

শহীদ মিনহাজ উদ্দিনের বাবা আলাউদ্দিন জনকণ্ঠকে, বাবারে কি আর বলব, সকল বাবাদের ইচ্ছা থাকে বাবার লাশটা সন্তান যেন বহন করে। কোন বাবাই চায় না সন্তানের লাশ বাবার কাঁধে বহন হোক। আমি এমন এক হতভাগা বাবা আমাকে আমার সন্তানের লাশ নিজ কাঁধে বহন করতে হয়েছে। আমার সন্তানকে জানাজা পর্যন্ত পড়তে দেয়নি হাসিনা সরকার। অনেক দূরে গিয়ে গোপনে গোসল দিয়ে জানাজা পড়তে হয়েছে। আমার ছেলেটাকে খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে বাবা।

সন্তানের রক্তাক্ত দেহ দেখার দৃশ্য আমি এখনো ভুলতে পারি নাই। যে হাসিনা সরকার আমার সন্তানকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন সে হাসিনার ফাঁসির রায় যেন দেখে যেতে পারি এখন এটাই শুধু চাওয়া। টাকা পয়সা কোনো কিছু আমাদের চাওয়া নেই। হাসিনার যদি ফাঁসির রায় হয়। এবং খুব দ্রুতই আমাদের চোখের সামনে যদি এ রায় বাস্তবায়ন করা হয় তাতেই আমরা শান্তি।
শহীদ জাবের ইব্রাহিম এর বাবা কবির আহমদ জনকণ্ঠকে, আমার ৬ বছরের ছোট্ট জাবেরকে হাসিনার নির্দেশে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের সকল রক্ত বাংলাদেশের জমিনে পড়েছে। যে জমিন থেকে আমার সন্তানকে খুনের নির্দেশ দিয়েছেন সে হচ্ছে হাসিনা। হাসিনার রায় হতে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। তাকে শুধু ফাঁসি দিলে হবে না। জনসম্মুখে এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে এ দেশের আর কোন স্বৈরশাসক এভাবে কোনো শিশুকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিতে অন্তত কয়েকবার চিন্তা করে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com