1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
৮ মা’ম’লার আ’সা’মী শহরের শীর্ষ ছি’ন’তা’ইকা’রী বাবু আটক কক্সবাজারে অসুস্থ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রামে ক্ষমতার দম্ভে বলিয়ান নতুন ‘ডন’ বগা কক্সবাজারে দুই হাজার আইফোন ও পুলিশের সরঞ্জামসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য সংসদে দুই হাত তুলে দোয়া করলেন জামায়াত আমির রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’ জামায়াতের চার নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিচারের দাবি বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় উখিয়ায় তরুণীর মৃত্যু রাতে ইয়াবাসহ আটক, পরদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আটক হওয়া ব্যক্তি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে শত শত একর কৃষিজমি

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৮/১১/২০২৫ ৬:৫০ এএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে শত শত একর কৃষিজমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দূষিত বর্জ্যে নদী-খাল পরিণত হয়েছে ড্রেনে। বিষাক্ত পানি জমিতে পড়ায় ফসল হচ্ছে নষ্ট। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় শতাধিক কৃষক। ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

উখিয়ার পশ্চিম বালুখালী এলাকার কৃষক গফুর উল্লাহ বলেন, ‘২০১৭ সালের আগে প্রতি বছর জমিতে তিন ধরনের ধান ও নানা মৌসুমি সবজি হতো। এখন ২০ একর জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। যতই পরিষ্কার করি, ক্যাম্প থেকে পলিথিন, বোতল, মেডিকেল বর্জ্য এসে জমে জমি একেবারে নষ্ট করে ফেলেছে।’

আরেক কৃষক ফরিদ আলম বলেন, ‘গত ৮ বছরে জমিতে চাষ করতে পারছি না। কেউ কোনো ধরনের সহায়তাও দেয়নি। খুবই কষ্টে আছি।’

কুতুপালং এলাকার কৃষক মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘দুই একর জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বর্জ্যে। আমরা খুব অসহায়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এখন তার খেসারত দিতে হচ্ছে।’

তেলিপাড়ার জেলে জাফর আলম বলেন, ‘যে খালে মাছ ধরতাম, তা এখন নালায় পরিণত হয়েছে। মাছ নেই, পানি বিষাক্ত। কৃষিজমি ও নদী-খাল সবই শেষ।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, ‘২০১৭ সালের আগে বালুখালীর বড় খালটি ছিল খুব উপযোগী। এখন সেখান দিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পের আবর্জনা নদীতে চলে যাচ্ছে। খালের পাশের সব জমির ফল-ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফে ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে জমিতে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি বছর বৃষ্টি নামলেই কৃষকদের জমি ডুবে যায় বর্জ্যে। চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায় কয়েকশ একর জমি নষ্ট হয়ে গেছে।’

উখিয়া ও টেকনাফের কৃষি বিভাগ বলছে, রোহিঙ্গা বর্জ্যের প্রভাবে কৃষিজমির পরিমাণ ও উৎপাদন উভয়ই কমছে। বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে টেকনাফে আবাদি জমি ছিল ১৩ হাজার ৭২৮ হেক্টর, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৬ হেক্টরে। একই সময়ে উখিয়ায় ১৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমি কমে ১৬ হাজার হেক্টরে নেমেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে উখিয়া ও টেকনাফে অন্তত এক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি তারা।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com