জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে গত ৩০ বছর ধরে ভারতে বসবাস করা এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী, যিনি ‘গুরু মাতা’ নামে পরিচিত, গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করে। অভিযুক্তের নাম বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি। মুম্বাই পুলিশের দাবি, জ্যোতির সাহায্যে পাচার হয়ে ভারতে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত জ্যোতি মুম্বাইয়ের ট্রান্সজেন্ডারদের কাছে ‘গুরু মাতা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি একজন আধ্যাত্মিক নারী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার প্রায় ৩০০ অনুগামী ছড়িয়ে রয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ জানায়, জ্যোতি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করার জন্য জাল জন্ম সনদ, আধার কার্ড এবং প্যান কার্ড তৈরি করেছিলেন। সম্প্রতি পুলিশের যাচাইয়ে এসব নথিপত্র জাল প্রমাণিত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গুরু মাতা’র পাচারকারী নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সুযোগ করাত। ভারতে প্রবেশের পর তাদের কয়েকদিন কলকাতায় রাখা হতো, সেখানে জন্ম সনদ ও স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট তৈরি করা হতো। এরপর তাদের মুম্বাইয়ের শিবাজি নগরে নিয়ে আসা হতো, প্রতি ঘরে ৩-৪ জন বাংলাদেশি থাকত এবং তারা ‘গুরু মাতা’-কে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া দিত।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পাচার করা বাংলাদেশিদের অনেককেই তিনি পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছিলেন।
মুম্বাই পুলিশ আরও জানায়, জ্যোতি MHADA অধীনে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট দখলে জড়িত ছিলেন। তিনি ২০০টিরও বেশি বাড়ি দখল করেন এবং সেগুলো ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতেন।