1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
চাকরি হারাচ্ছেন যে ৩৩ এসপি চীনা করিডোর: মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ও ভারতের টেনশন প্রধান বাধা অপরাধ প্রমাণিত হলে নিষিদ্ধ হতে পারে আ.লীগ: চিফ প্রসিকিউটর ব্রাজিল বিদায় নেবে, ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ক্রিস সাটন ভিক্ষা করে ৭০ টাকা দিয়েছিলেন নির্বাচনী তহবিলে, বদলে পেলেন নতুন ঘর সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়ালেন মেসি নতুন কর্মপরিকল্পনা: টেকনাফকে অপরাধ মুক্ত করতে বার্তা এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ফেরার কথা বলে আ.লীগের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছেন হাসিনা: সোহেল তাজ টেকনাফ পৌর বিএনপির ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষনা, আহবায়ক রাজ্জাক- সদস্য সচিব এনামুল

উগ্রপন্থিদের উত্থান ঘটছে রোহিঙ্গা শিবিরে ; দেশের গোয়েন্দা তৎপরতা অসন্তোষজনক

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ০২/১২/২০২৫ ৬:২১ পিএম

রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বাড়িয়ে দেয়া মানবিক সহায়তার হাত, এই মুহুর্তে উগ্রবাদ শঙ্কা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাহীনতার একটি নতুন উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও দেশের আভ্যন্তরীর নিরাপত্তা সূত্র এবং গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান ভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন “তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)” এবং “আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (ARSA)”র কর্মকান্ডকে যথাযথ নজরদারীতে রাখা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রাহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অবদমিত রাখা হয়েছে। যদিও বাস্তব চিত্র এক্ষেত্রে পুরোপুরি ভিন্ন।

অতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ই হয়দার নামক একটি প্রোফাইল থেকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)এর অস্ত্রধারী কয়েকজন উগ্রবাদী দাবি করে যে, বাংলাদেশের ধর্ম প্রচারক আলেম ওলামা মাশায়েখগণ দ্বীন প্রচারের দ্বায়িত্ব যথাযখ ভাবে পালন করলেও জিহাদ এর প্রতি যুবকদের উদ্বুদ্ধ করছেন না। এমনকি তাদের (TTP এবং ARSA) স্বীয় গোষ্ঠীয় কেউ এ বিষয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে, যথাযথ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। বরং বিভ্রান্তি তৈরীর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে হুমকী এবং ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে। এই অবস্থা অচিরেই দূরীভূত না হলে তারা আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকিও দিয়েছেন ভিডিও বার্তায়।

 

তিন মিনিট পয়ত্রিশ সেকেন্ড দীর্ঘ এই ভিডিও বার্তায়, একটি বিষয় মুটিমুটি ভাবে আন্দাজ করা যাচ্ছে যে, প্রত্যোক্ষ না হলেও পরোক্ষ ভাবে দেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর এক বা একাধিক অশুভ উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ইতিমধ্যে ঘটে গিয়েছে কিংবা উত্থিত হবার প্রক্রিয়ায় বেশ জোরেশোরেই চলছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান সারীর বিভিন্ন গণমাধ্যমকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং গণমাধ্যমকর্মী প্রবেশ করলে তাদের স্বাধীন কর্মকান্ডে বাঁধা প্রদান করা দীর্ঘ দিনের অভিযোগ। স্থানীয় সহিংসতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ঘাঁটতি সহ নানবিধ বিষয় নিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প অঞ্চল এবং ততসংলগ্ন স্থানীয় অধিবাসীরা দীর্ঘদিন যাবত অভিযোগ করে আসলেও, সাম্প্রতিক সময়ের অভিযোগ গুলো আশঙ্কাজনক ভাবে গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য প্রবলভাবে হুমকী সরূপ বলে মন্তব্য করছে স্থানীয় অধিবাসী থেকে শুরু করে অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

বিশেষ করে বাংলাদেশী ভূ-খন্ডের আভ্যন্তরে এবং শরনার্থী শিবিরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অস্ত্রের মজুদ বাড়তে থাকা, স্থানীয়দের মাদক সংশ্লিষ্টতা বাড়তে থাকা এবং সহিংসতা বাড়তে থাকার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বারংবার উঠে আসলেও এর প্রতিকার মিলছে কোথাও। উপরুন্তু ইতিপূর্বের সকল জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে রোহিঙ্গা উগ্রবাদীদের যোগসূত্র, তাদের উত্থান কিংবা সম্ভাব্য উত্থানকে কোন ভাবেই ভালো দৃষ্টিতে দেখছেন না দাতা সংস্থাগুলো। বরং রোহিঙ্গ শিবিরে দীর্ঘদিন যাবত ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এমন একাধিক দাতা সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের বিপরীতে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টির খুব বেশী দিন দীর্ঘ হবার সুযোগ দেখছেন তা তারা। ফলে অতি শীঘ্রই এটির কূটনৈতিক সমাধান না মিললে বিষয়টি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তার জন্যও একটি হুমকী হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বৈদেশিক দাতা সংস্থার স্থানীয় মুখপাত্র জানান, ত্রাণ সহায়তার ফলে রোহিঙ্গাদের কেবলমাত্র অস্থায়ী ভাবে ভরণপোষন দেয়া সম্ভব, কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যে থাকা ছোট ছোট গোষ্ঠীগত বিরোধ এবং রোহিঙ্গা যুবকদের বিপথগামীতা থামানো না গেলে এটি কেবল বাংলাদেশ নয় বরং উপমহাদেশের একটি অনিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলার উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে। যা আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

 

বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের কোন অস্তিত্ব নেই এবং এর উত্থানের সমূহ কোনরূপ সম্ভাবনা নেই বলে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করলেও, মুলত কিসের ভিত্তিতে তাদের এমন বিবৃতি তা এখনো স্পষ্ট হয়নি দেশের সাধারণ জনগণের কাছে। বরং রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা বিগ্নিত হয়েছে কক্সবাজার জেলা সহ চটগ্রাম জেলা ও বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার। প্রায় প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গ আশ্রয়কেন্দ্রের বাহিরে ধরা পড়ছেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সদস্যরা। এমনকি জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ন নাগরীক পরিচয় তৈরী করতে গিয়েও নিয়মিত গ্রেফতার হচ্ছেন রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর চতুর সদস্যরা। যার ফলে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান নিম্নমূখী হওয়া এবং বৈশ্বিক ভাবে বাংলাদেশী নাগরীকদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হওয়া ও পর্যটকদের ভ্রমণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার মতো জটিলতাও দিন দিন বাড়ছে।

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী গোষ্ঠীর যোগাযোগ এবং এ থেকে সৃষ্ট আভন্তরীন নিরাপত্তা সংকট মুলত কেমন আকার ধারণ করতে পারে, জানতে চেয়ে দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একধিক বিশিষ্টজনের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা জানান, এটি সরাসরি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যেমনটা গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রসাশনিক উদ্দ্যোগ থাকা উচিত তার কোনটাই যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উদাহরণ স্বরূপ উন্নত বিশ্বের একাধিক শরনার্থী শিবিরের কথা উল্ল্যেখ করে কেউ কেউ জানান, শরনার্থীরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য কখনোই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তবে এমনটি কোথাও ঘটলে সেটি গুরুতর ভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ। এবং এটি সৃষ্টির পেছনে যথাযথ গোয়েন্দা তৎপরতা না থাকা কিংবা প্রসাশনিক কাঠামগত জটিলতাকে দায়ী করেছেন কেউ কেউ।

 

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কারো কারো অভিমত এই যে, উগ্রাবাদীদের জন্য সাধারণ জনতাকে জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে দলে ভেড়ানোর পরিবর্তে ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিতে উগ্রতার পথে পরিচালিত করা তুলনামুলক সহজ। এবং এই চোরাগলি ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে যে কোন সাধারণ নাগরিককে তার চিন্তা শক্তির প্রয়োগের বাহিরে নিয়ে পরিকল্পিত একটি কাঠামোতে আঁটকে দিয়ে দলভারী করা যায়। যার ব্যবহার ইতিপূর্বে বহু ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন করেছেন। তবে জনসচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় যথাযথ উদ্দ্যোগ থাকলে পৃথিবীর কোন ভূ-খন্ডেই উগ্রবাদের চাষাবাদ সহজ নয়। এটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে সোচ্চার হবার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হবার পরামর্শ জানিয়েছেন অনেকে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com