1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড ছাত্রলীগের কমিটিতে জামায়াত নেতার ছেলের নাম, বললেন ‘আগে জানলে ত্যাজ্য করতাম’ রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব হলেন কাজী রাকিব রোহিঙ্গাদের ৪৬ কোটি পাউন্ডেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক চলতি অর্থবছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে: ইসি মাছউদ টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে হচ্ছে কমিটি, নেতৃত্বে থাকবেন ইউএনও-ওসি জুলাইকে ধারণ করে না তাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে অনুপস্থিত বিরোধীদলীয় নেতা: প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রীর পায়ুপথে মিলল ৬ ‘স্বর্ণের ডিম’

উখিয়ায় ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৯/০৪/২০২৬ ৯:০৭ পিএম

উখিয়া সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আবারও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদীর পাশের চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের ভেতরে বিস্ফোরণটি ঘটে।

এ ঘটনায় মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০ এর বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আমির হোসেন। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি আহত হয়েছেন।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল একই এলাকার চাকমাকাটায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তারও আগে ১০ এপ্রিল একই সীমান্ত এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে আরও একজন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। মাছ ধরে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণে তাঁর একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া ২৯ মার্চ নাফ নদীর শূন্যরেখায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও আরেকটি বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আনছার উদ্দিন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে।”

রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছেন।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন চর ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিস্তৃতভাবে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব মাইন স্থাপন করেছে।

সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com