কক্সবাজার পৌরসভার নুনিয়াছড়া শিল্প এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সরকারি ভবনে (মঙ্গলবার) ২৩ জুন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে কেক কাটা ও মিছিলের ঘটনা ঘটেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় সদ্য জেলফেরত এক নেতার নেতৃত্বে গোপনে আয়োজিত এই কর্মসূচির ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলার আসামি মো. আলমের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী নুনিয়াছড়ার ওই ভবনের ভেতরে জড়ো হয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। এরপর তারা আবদ্ধ কক্ষের ভেতরেই মিছিল ও স্লোগান দেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা একটি সংগঠনের এমন গোপন তৎপরতা এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, ভবনটি মূলত সিডব্লিউবিএমপি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল, যেখান থেকে ‘ভিলেজ কনজারভেশন গ্রুপ’-এর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে এটি তাদের সরাসরি দেখভালে নেই। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সরকারি ভবনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি কীভাবে পালিত হলো এবং কারা এতে জড়িত, সেই তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।”
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত ও নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্বৈরাচারের দোসররা আবদ্ধ রুমে মুখোশ পরে নাশকতামূলক কর্মপরিকল্পনা করছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জেলা হিসেবে কক্সবাজারে এই আইনবিরোধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক অ্যাকশন নেওয়া প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যকলাপে লিপ্ত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারী ব্যক্তিদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।