কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃষি সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই দফা অভিযানে অন্তত অর্ধশতাধিক বস্তা সার আটক করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, এসব সার মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় মজুদ করা হয়েছিল।সংবাদ প্রতিবেদন
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি গয়ালমারা এলাকার সীমান্তসংলগ্ন আনজুমানপাড়া পথ দিয়ে সাত বস্তা সার পাচারের সময় স্থানীয়রা একটি চালান আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, সারগুলো রামু উপজেলা থেকে আনা হয়েছিল। একই সময়ে পশ্চিম পালংখালী এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ৫০ থেকে ৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামু ও কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে সার সংগ্রহ করে সীমান্তবর্তী স্থানে মজুদ করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো আরাকানে পাচারের চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন উপজেলা থেকে সার এনে উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় জমা করছে এবং রাতের আঁধারে বা দুর্গম পথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে পাচার করছে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, কৃষকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা সার পাচার হলে সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা অভিযোগ করেন, এক উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত সার অন্য উপজেলায় পরিবহনের বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, জুন মাসে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৪২০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার একটি অংশ পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেন, “সারসহ বিভিন্ন পণ্য আরাকানে পাচারের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। সার পাচার রোধে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
তিনি জানান, জুন মাসে উখিয়া উপজেলার জন্য মাত্র ৬৭ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জব্দ হওয়া সার অন্য উপজেলা থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের জব্দ করা সার পরবর্তীতে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “সার পাচার ও সার জব্দের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সারসহ সব ধরনের পণ্য মিয়ানমারে পাচার রোধ এবং এ-সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা বন্ধে তৎপরতা বাড়ানোর জন্য ৬৪ বিজিবি, কৃষি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
সচেতন নাগরিকদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় সারের অস্বাভাবিক মজুদ ও পরিবহন বিষয়ে দ্রুত তদন্ত এবং কক্সবাজার-উখিয়া সড়কের বিভিন্ন চেকপোস্টে কড়াকড়ি তল্লাশি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: উখিয়া নিউজ