1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor

গ্রাম থেকে শহরে আসা শিক্ষকদের পুনরায় গ্রামে পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২৬/০৬/২০২৬ ১২:৪৭ এএম

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০ বছর ধরে গ্রাম থেকে শহরে আসা শিক্ষকদের পুনরায় গ্রামে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, গ্রামে শিক্ষক-সংকট রেখে সবাই শহরে এসে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষকতা করবে, তা হতে পারে না। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় অডিটরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের আয়োজনে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৬০ হাজার শিক্ষক-সংকট নিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চলছে। এভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সনাতন পদ্ধতির নকল এখন আর নেই। তবে ‘ডিজিটাল নকল’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে ফেসবুকে কেউ প্রশ্নফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নিতে আসতে হবে। অপরাধ প্রমাণ করতে পারলে সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রলের ক্ষেত্র হতে দিতে পারি না।’

পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা কোনোপ্রকার অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি পরীক্ষার হলে বই বা কাগজ পাওয়া যায়, তবে তার দায় ওই কক্ষের পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকেরা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে বলতে পারেন না যে তারা দেখেননি।’

ড. মিলন বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচিতে শিশুদের মধ্যে কোনো ধরনের পচা বা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবহেলা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

মিড ডে মিল কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশের জন্য সরকার মিড ডে মিলের মতো বড় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের গাফিলতির কারণে যদি কোমলমতি শিশুদের পচা খাবার দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শুধু চাকরিচ্যুত নয়, প্রয়োজনে তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় “প্যারালাইজড” (স্থবির) করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন এক জায়গায় থেকে যাওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অলস বসে আছেন, অথচ মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করুন। যারা নিষ্ক্রিয়, তাদের অবিলম্বে উপজেলায় বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের অলসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’

মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. মিলন বলেন, ‘বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকেরা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন—ওভার মার্কিং (বেশি নম্বর) নাকি আন্ডার মার্কিং (কম নম্বর) হচ্ছে, তা বোর্ড তদারক করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আজম মোহাম্মদ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ, কেসিসি প্রশাসক, কেডিএ চেয়ারম্যানসহ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com