বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশে না পাঠানো, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে দেওয়া চেক ডিজঅনার হওয়া এবং একের পর এক অভিযোগে নতুন নামে ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ট্রাভেল ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি চেক ডিজঅনার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন আবুল কালাম। নির্ধারিত সময়ে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার পর টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে একই পরিমাণ অর্থের একটি চেক প্রদান করা হয়। তবে চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে “Insufficient Fund” উল্লেখ করে ফেরত আসে। পরে আইনগত নোটিশ পাঠিয়েও অর্থ পরিশোধ না করায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় কুষ্টিয়ার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন রাজধানীর পল্টন এলাকায় বৃষ্টি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠে আসে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরবর্তীতে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় গ্লোবাল ফ্লাই অ্যাভিয়েশন নামে নতুন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। বিদেশে চাকরি ও ভিসার নিশ্চয়তার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি তাদের। টাকা ফেরতের দাবি জানালে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ, নতুন নতুন তারিখ দেওয়া এবং একের পর এক আশ্বাস দেওয়াই ছিল নিয়মিত কৌশল বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রিক্রুটিং লাইসেন্স (RL) না থাকা সত্ত্বেও অন্য একটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং গ্রাহকদের কাছে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, আবার অনেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।