1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
৩ টি পুলিশ ফাঁড়ি হবে টেকনাফের বাহারছড়ায় : প্রস্তাবিত কচ্ছপিয়ায় পুলিশ ফাঁড়ির জমি নির্ধারন উখিয়ায় সরকারি খাল ভরাট করে আওয়ামী লীগ নেতার দোকান নির্মাণ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন সাতক্ষীরার সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম ডিবির হাতে গ্রেফতার কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২ সরকারবিরোধী মিছিলের প্রস্তুতি, যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা বিএনপি নেতার বাড়িতে ককটেল হামলা: আ.লীগের ৬০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ-সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে ছাত্রশক্তির সভায় কমিটি নিয়ে হট্টগোল ৯৮টি মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম’: পলক

মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, সারাদেশে গ্যাসের সংকট

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২৬/০৭/২০২৬ ১২:৫৮ পিএম

মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) এই রিপোর্ট লেখার শেষ সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এখনো কারিগরি ত্রুটির সমাধান সম্ভব হয়নি। ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। যার কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।

জানা যায় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ এলপিজি সিলিন্ডার আবার কেউ মাটির চুলা বা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছেন।

এদিকে গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে যাত্রী নিয়ে রাস্তায় বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সিএনজিচালিত গাড়ি চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাস না পাওয়ায় যাত্রী পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন ভাড়ায় চালানো সিএনজি চালকরা।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মীদের কাজেও প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাস সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সিএনজিচালক, শিল্প উদ্যোক্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সংশ্লিষ্টরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এই বিষয়ে সরকারের অভিমতে জানা যায় গত বুধবার বিকেলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। এতে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানা যায়।

জানা যায় এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

তবে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পর সহসাই গ্যাস সংকট কাটছে না বলে জানিয়েছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখন এক হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাচ্ছি। আমাদের চাহিদা এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এফএসআরইউ ঠিক হলেই সংকট কেটে যাবে বিষয়টা এমন নয়। এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ার আগে আমাদের দেওয়া হচ্ছিল এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে যাচ্ছে। সেখানে অন্যান্য সেক্টরের জন্য আমার থাকে এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে প্রয়োজন মিনিমাম এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এজন্য ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সংকট এমনিতেই থাকবে।’

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায়ই এই ধরনের সংকট তৈরি হয়। সংকট কাটাতে আমাদের মিনিমাম ১৫ দিনের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি আরেকটি এফএসআরইউ দরকার। যেটি হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল করেছে। ওটা বাতিল করা উচিত হয়নি। একটা ল্যান্ডবেজড এফএসআরইউ আমাদের দরকার। সমুদ্রে ঝড় উঠলে দেখা যায় এফএসআরইউ বন্ধ থাকে। এজন্য ল্যান্ডবেজডটা দরকার। উদ্যোগটা এখনি নিতে হবে না হলে সামনে সংকট আরও বাড়বে।’

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com