মহেশখালীতে ফেসবুক পোস্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করায় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে মহেশখালী থানা পুলিশ।
এই বিষয়ে জানতে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মহেশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) প্রতুল কুমার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন এই বিষয়ে ‘ওসি স্যার বলতে পারবেন।’ মামলা কিংবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসা যায় কী না জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
আটক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী জুবাইদা বেগম ও বড় ভাই মোস্তাক আহমেদ টিটিএনকে অভিযোগ করে বলেন বুধবার দিবাগতরাত (২০ মে) আনুমানিক ১ টার দিকে একদল পুলিশ রফিকুল ইসলামকে উপজেলার ছোট মহেশখালীর সিপাহির পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ নেই। ঢাকায় শিশু শিক্ষার্থী রামিসা ধর্ষণের বিষয় নিয়ে একজনের ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে মন্তব্য করায় রফিকুল ইসলামকে রাতের আঁধারে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে দাবি মোস্তাক আহমেদের।
জানা যায়, আটক রফিকুল ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মহেশখালী উপজেলা কমিটির সদস্য। এই বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক মির্জা তারেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার। ঢাকায় রামিসা ধর্ষণের ঘটনায় ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমেন্ট বা স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া দেওয়ায় তাকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। মির্জা তারেকের দাবি, রফিকুল ইসলাম একজনের স্ট্যাটাসে “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছরের আগে পর্যন্ত গুম ছিলেন, এখন দেবতা হয়ে গেছে”—এমন মন্তব্য করার কারণে পুলিশ রাতে আঁধারে সন্ত্রাসী বাড়িতে গিয়ে রফিকুল ইসলামকে তুলে নিয়ে গেছে। এটা হাস্যকর। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য তাদের কাছে নেই। এই ঘটনায় ফ্যাসিজম দ্রুত ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
আটক রফিকুল ইসলামের ভাই মোস্তাক জানান, রফিকুল ইসলামকে রাতে পুলিশ কয়েক দফায় বেধড়ক মারধর করেছে। সকালে মোস্তাক থানায় গেলে ভাইয়ের কাছে রফিকুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে এমন অভিযোগ করেন বলে দাবি তার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনা বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন।
সূত্র: টিটিএন