কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলার মরিচ্যা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পরে তাদের আগের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. মিজানুর রহমান (২৬), ফরহাদ হোসেন (১৮), সাজ্জাদুর রহমান (১৯), সাইফুল ইসলাম (২১), মোহাম্মদ ইমরুল (১৯), মো. সোহেল (১৯) এবং মাইক্রোবাসচালক আবুল খায়ের (৩০)।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ জুলাই উখিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুলাই কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন।
পুলিশের দাবি, ওই বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
সংবাদ পেয়ে পুলিশের একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: untv