প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।
নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে যে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে, এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে তারপরে আমরা ১০০ গরিব পরিবারকে আজকে ঘরের চাবি হাতে উঠিয়ে দিতে পেরেছি। এছাড়াও আপনাদের সামনেই আপনারা দেখলেন, আরও অনেক মানুষকে সহযোগিতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আর্থিক সহায়তা করেছি। কিছু মহিলাকে আমরা চাল দিয়েও সহযোগিতা করেছি।
তিনি বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষকে দেখে রাখা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মা-বোনদের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষ যারা অসুস্থ হবে তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের তরুণ সমাজ, যুবসমাজ—নারী হোক, পুরুষ হোক— তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল— এই দেশের মায়েদের সহযোগিতা করার জন্য। এই দেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে জন্য আমরা বলেছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাবো। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। এবং ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে এই ২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো।
‘আপনাদের এই এলাকায়, এই উপজেলার মধ্যে ইনশাআল্লাহ ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এই আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে, আরও অনেক মা-বোন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। কেন আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছিলাম— আমাদের লক্ষ্য ছিল যাতে ভাইদের পাশাপাশি বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে, একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে, সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি’-যোগ করেন তিনি।