কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সাধারণ সম্পাদক শইমী ইমরান হিকিম আজ রোববার দুপুরের দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, ‘আমিররাও ভাগ খায়? ভাগ পায় ভালোইত ভাগাভাগির রাজনীতি সামনে আরও কত কিছু দেখব, বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির দ্বারা সব সম্ভব।’
এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নির্দিষ্ট কোনো নেতার নাম উল্লেখ না করে পদবি ধরে স্ট্যাটাসটি দেওয়া হলেও, তা কেন্দ্রীয় নাকি জেলা ও উপজেলা আমিরকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে দলের ভেতরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
স্ট্যাটাসটি নজরে পড়ে স্থানীয় অন্য নেতাকর্মীদেরও। আবু সাঈদ ইউনিটের সভাপতি মো. মাহবুব আলম ওই স্ট্যাটাসের কমেন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির মানে একটা উপজেলার জামায়াত ইসলামের অভিভাবক। সেই অভিভাবক যদি কারো সঙ্গে লিয়াজু মেনটেন্ট করে চলে, অন্যায় প্রশ্রয় দিয়ে চলে, জামায়াতের এমপিকে ছোট করার জন্য নিজেকে বড় করে জাহির করে চলে; অন্যায় করলে প্রমাণ না থাকার পরেও বিচার করার হিম্মত বা সাহস না থাকে- তাহলে আমির দিয়েই বা কি হবে?’
তিনি আরও লেখেন, আমরা এমন উপজেলা আমির চাই যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি করবে। যে এমপির সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে মূল্যায়ন করবে… কারও অবৈধ ইনকামের ভাগিদার হবে না। এমপিকে ভাসুর মনে করে মিলেমিশে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জোটবদ্ধভাবে কাজ করবে। আপনারা কী আগামীতে এমন উপজেলার আমির চান?
একই স্ট্যাটাসে দলীয় ভাগাভাগির ইঙ্গিত দিয়ে মেহেদি হাসান মিথুন নামে আরেক কর্মী কমেন্টে লিখেন, ৬০%-৪০% খাওয়া-দাওয়া বেশ হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পোস্ট ও ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী কালবেলাকে বলেন, আমাকে উদ্দেশ্য করেই তারা ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তবে আমি কোনো ধরনের ভাগাভাগি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই বরং এমপির প্রতিনিধি হিসেবে তারা নিজেরা নানা অনিয়ম করেছেন, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হয়তো সেই কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এসব ফেসবুকে লিখছেন ও কমেন্ট করছেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা শইমী ইমরান হিকিমের বিরুদ্ধে জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অপর জামায়াত নেতা মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইনজীবী রায়হান কবীরের ওপর হামলা, গরু নিলাম প্রক্রিয়ায় চাঁদাবাজি এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।