1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
বিজিবি’র পৃথক অভিযান : ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ রোহিঙ্গা নারী আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন: এটিএম আজহার বাংলাদেশকে ইনভেস্টমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডায় ভাঙচুর: এবার জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে সৌদি, ১ লাখ সেনা প্রস্তুত আমার মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া দেশে আমার হাতে হাতকড়া, আক্ষেপ নিয়ে বললেন জামায়াত নেতা যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার :পেকুয়ায় ২৭ গ্রামীণ সড়ক এইচবিবি ও ইউনিব্লকে উন্নীতের উদ্যোগ টেকনাফের বাহারছড়ায় ৫শ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে সৌদি, ১ লাখ সেনা প্রস্তুত

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ০৩/১০/২০২৬ ৩:১৯ পিএম

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ করতে উপকূলীয় এলাকায় অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলার দুটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে রিয়াদ। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার (৩ অক্টোবর) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। সে সময় দেশটি সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয়। তবে হুতি ওই সরকারকে রাজধানী সানা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়, যা মোটামুটি টিকে ছিল। তবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার পর চলতি বছর গোষ্ঠীটি সৌদি জাহাজ ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

সৌদির পরিকল্পিত অভিযানের একটি বড় লক্ষ্য হলো হুতির দ্রুত অগ্রযাত্রা ঠেকানো। গোষ্ঠীটি ইতোমধ্যে উপকূল বরাবর এগিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল বলে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব হামলার দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। প্রথমটি হলো বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে সীমিত পরিসরের অভিযান। দ্বিতীয়টি হলো- আরও বড় আকারের অভিযান, যেখানে আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে হামলা চালানো হবে।

অভিযানের পরিসরের ওপর নির্ভর করে ১ লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মোতায়েন করা হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কবে অভিযান শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তারা। তাদের ধারণা, এক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শুরু হতে পারে। আবার নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা শুরু হতে পারে।

বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান এই পথটির গুরুত্ব এ বছর আরও বেড়েছে। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাব আল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প নৌপথে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাব আল-মান্দেব হুতির নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় সৌদি আরব নতুন করে শান্তি আলোচনায় যেতে পারবে না বলে মনে করছে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণের ফলে বড় কৌশলগত প্রভাব খাটাচ্ছে হুতি।

সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি মনে করেন, ২০১৫ সালের সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের তুলনায় এটি অনেক ছোট আকারের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সৌদি আরব হুতিকে পুরোপুরি পরাজিত করতে চাইতে পারে, তবে একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেবের উপকূলীয় এলাকায় গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণের আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাও তাদের লক্ষ্য হতে পারে। তার ভাষায়, আদর্শ পরিস্থিতি হবে উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল করে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা।

গত তিন বছরে লেবাননে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার পর হুতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন অভিযান অঞ্চলটিতে আরেকটি বড় সংঘাতের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

সৌদি আরবের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সৌদির ইয়েমেন অভিযানকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক উপদেষ্টার মাধ্যমে সহায়তা করছে। এর মধ্যে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের তথ্যও রয়েছে বলে এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন। তবে এই সহায়তার পরিসর সীমিত হতে পারে। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি বিমান হামলার মতো সামরিক সহায়তা চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

গত মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা তুরস্ক ও পাকিস্তানও ইয়েমেনে ব্যবহারের জন্য সৌদিকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মাসে এডেনে চারটি কার্গো বিমানে করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে।

আরেক পাকিস্তানি কর্মকর্তা, উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা ও এক পশ্চিমা কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন এবং ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা করছেন। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধের আগেই সৌদি আরবের কেনা তুরস্কের ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছে ইয়েমেনে।

নতুন অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো হুতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা। এ জন্য রিয়াদ কয়েকটি মিত্র দেশের কাছে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সহায়তা চেয়েছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের স্থলসীমা রক্ষা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পাকিস্তান ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। গত বছর থেকে কয়েক ধাপে এসব সেনা সৌদি আরবে পৌঁছেছে। তবে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তান সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে ওই কর্মকর্তা জানান। এদিকে ফ্রান্স সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com