বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)। দলীয় কর্মসূচি ও গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না হয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন না ড. মো. ওবায়দুল্লাহ।
ড. ওবায়দুল্লাহ গোদাগাড়ী উপজেলার পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। তিনি রাজশাহী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি ড. মো. ওবায়দুল্লাহ।
তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ-সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ। সংসদ-সদস্যের প্রতিনিধি হিসাবেও এলাকায় কাজ করছেন। আসন্ন নির্বাচনে গোদাগাড়ী পৌরসভায় তিনি জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী।
ড. ওবায়দুল্লাহর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের পোস্ট বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সাড়ে তিন মাসে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসেই তিনি কোনো না কোনো দলীয় কর্মসূচি, গণসংযোগ কিংবা সংসদ-সদস্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, ২০ আগস্ট তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ১৮ আগস্ট সনাতন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই দিন সংসদ-সদস্যের উপস্থিতিতে গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গেও মতবিনিময়ে অংশ নেন। ১৬ আগস্ট মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচি, ১৩ আগস্ট পৌরসভায় গণসংযোগ, ১০ আগস্ট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং ৬ আগস্ট জামায়াতের সভায় অংশ নেন। ৫ আগস্ট জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল ও সমাবেশে এবং ৩ আগস্ট জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন।
এছাড়া ৪ আগস্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে বক্তব্য, ৩০ জুলাই প্রতিবন্ধীদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য, ২৮ জুলাই গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং ২৩ জুলাই কাঁচা রাস্তা পরিদর্শনের তথ্য রয়েছে। ২১ ও ১৯ জুলাই, ৩০ জুন, ২২ ও ১৬ জুন, ১৭ জুন, ১৪ ও ৭ জুন এবং ৩১ মে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ১৯ মে ঢাকায় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দপ্তরেও যান।
২৪ আগস্ট পালপুর ধরমপুর কলেজে সরেজমিন গিয়ে ড. ওবায়দুল্লাহকে পাওয়া যায়নি। জুলাই ও আগস্টের হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দলীয় কর্মসূচি ও গণসংযোগে অংশ নেওয়া দিনগুলোতেও তার স্বাক্ষর রয়েছে। শুধু ৫ ও ৬ আগস্ট সংরক্ষিত ছুটি নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
কলেজে ২০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ১৭ জন। সব বিভাগের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আবশ্যিক এবং প্রতিদিন এ বিষয়ের ক্লাস রয়েছে। শিক্ষকও একজন-ড. ওবায়দুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, কম্পিউটার ল্যাবের সব কম্পিউটার নষ্ট থাকায় ব্যবহারিক ক্লাসও ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাস না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা খারাপ ফল করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন করলে ড. ওবায়দুল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ৩০ আগস্ট তাকে ফোন করা হলে গাড়ি চালানোর কথা বলে পরে ফোন করতে বলেন। পরে আরও দুবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) মোহা. সাদিকুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকলে অধ্যক্ষ ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।
কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালে অবসরে গিয়েছি। দেড় মাস আগে সভাপতি হয়েছি। বিষয়টি আগে জানতাম না। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষকে মিটিং ডাকতে বলেছি। এ ধরনের অনিয়ম চলতে দেওয়া হবে না।’