কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্প-৭ ভিত্তিক কেফায়েত উল্লাহ ওরফে আব্দুল হালিম বাহিনীর সদস্যরা রাতের আঁধারে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতেও উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের মারকাজ পাহাড় এলাকায় ৮-১০ জন সশস্ত্র যুবককে অবস্থান নিতে দেখেছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা যুবক জানান, বুধবার রাতের দিকে ওই সশস্ত্র গ্রুপটি এপিবিএন পুলিশের টহল টিমের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। মারকাজ পাহাড় ছাড়াও ক্যাম্প-২ ইস্ট এবং ক্যাম্প-১ এর বিভিন্ন ব্লকে কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র গুঁজে রাতভর তাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
হঠাৎ করে হালিম গ্রুপের এই তৎপরতায় ক্যাম্পগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক বছর ধরে উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প আরসা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন লব্বয় সলিম।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাতে ওই ক্যাম্পে আরসা কমান্ডার সলিম ওরফে লব্বয় সলিকে গুলি করার ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই ঘটনায় আনোয়ার ইসলাম বাপ্পী নামে এক যুবককে শনাক্ত করেন, যিনি হালিম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্প-১৫ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে হালিম গ্রুপ এই হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, হালিম গ্রুপের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ক্যাম্প-১ এর এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই ক্যাম্পকে অস্থিতিশীল করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত যারা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করেন, তাদের টার্গেট করে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ।
ইতিপূর্বে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিব উল্লাহ হত্যার ঘটনাও একই ধরনের পরিস্থিতিতে ঘটেছিল বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে এবারও প্রত্যাবাসনপন্থী নেতারা ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত কয়েক রাতে কুতুপালং ক্যাম্পে জিয়া, শাকের, মাহমুদ উল্লাহ জোবাইর ও আকবরের নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়া দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। অন্যদিকে বালুখালী এলাকার ক্যাম্পগুলোতে তাকি, ফারুক, হাফেজ সাইফুল, জসিম ও ইউনুসের নেতৃত্বে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) বলেন, “ক্যাম্প এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
সূত্র: উখিয়া নিউজ