1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
প্রার্থী বাছাইয়ে ৪ মানদণ্ডের ওপর গুরুত্ব বিএনপির প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পদ হারালেন জামায়াত নেতা শান্তিতে নোবেল পেলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ, বন্ধ হচ্ছে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব’, গ্রামপুলিশ ছেলের ঘরে আশ্রয় মেলেনি বৃদ্ধ মায়ের হাসিনার কবরটাও দেয়ার মতো সাহস বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কারো নেই: রাশেদ খাঁন পরিচয় গোপন করেও রক্ষা পেল না খুনি, ৮ দিন পর উখিয়া থেকে গ্রেপ্তার ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দাউদকান্দিতে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ৩৬ হাজার ইয়াবাসহ টেকনাফের চালক গ্রেপ্তার

‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব’, গ্রামপুলিশ ছেলের ঘরে আশ্রয় মেলেনি বৃদ্ধ মায়ের

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ০৯/১০/২০২৬ ৩:১০ পিএম

বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি নন গ্রামপুলিশ ছেলে সাগর হোসেন। তাই ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা মুন্নি খাতুন (৫৫)।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে মায়ের করা অভিযোগের শুনানি হয়।

অভিযুক্ত সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ হিসেবে কর্মরত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সাগর ও এক মেয়ে রয়েছেন। মেয়েটিরও বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের অবলম্বন এখন একমাত্র ছেলে সাগর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাগর হোসেনের বিয়ের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ছেলে মাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন। নিজের সঙ্গে রাখতেও অনীহা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী মায়ের অভিযোগ, ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার অভিযোগের স্থায়ী সুরাহা হয়নি।

পরে বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে বৃদ্ধা মা তার অসুস্থতা, অসহায়ত্ব এবং ছেলের সঙ্গে থেকে বাকি জীবন পার করার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগটির শুনানি হয়। শুনানিতে মুন্নি খাতুন ও তার ছেলে সাগর হোসেনের বক্তব্য শোনা হয়।

শুনানিতে মাকে নিজের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার বিষয়ে সাগরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন ইউএনও সেলিম আহমেদ। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিকভাবে সমস্যাটির সমাধান করার জন্যও গ্রামপুলিশ সাগরকে ইউএনও নির্দেশ দেন।

তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে সাগর অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন- আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।’

পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ইউএনও সাগর হোসেনকে কয়েক দিনের সময় দেন। এ সময়ের মধ্যে মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার বিষয়ে একটি সমাধানে আসার জন্য তাকে বলা হয়।

ছেলের সঙ্গে থাকার আকুতি জানিয়ে মা মুন্নি খাতুন বলেন, আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আমি অসুস্থ মানুষ, হার্টের রোগী। আমার এখন ছেলে ছাড়া আর কে আছে? আমি ছেলের কাছে টাকা-পয়সা চাই না। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের সঙ্গে থাকতে পারি; তাহলে বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারব।

তিনি আরও বলেন, আমি তো মায়ের অধিকার নিয়ে ছেলের ঘরে থাকতে চাই। শেষ বয়সে সন্তানের কাছে একটু আশ্রয় চাইছি। এর বেশি আমার কোনো চাওয়া নেই।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, মা-ছেলের বিষয়টি শুরু থেকেই আমি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে কোনো কিছুতেই রাজি হন না ছেলে সাগর। স্থানীয়ভাবে আমরা সমস্যাটি সমাধানে ব্যর্থ হয়েছি। পরে তার মা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছেন।

ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা তার সন্তানের কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণ প্রত্যাশা করছেন। আমরা ছেলেকে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাকে কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়; সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের বিষয়টি যাতে আরও জটিল না হয় এবং একই সঙ্গে বৃদ্ধা মায়েরও যাতে কষ্ট না হয়, সেদিক বিবেচনা করেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com