1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ

আওয়ামীলীগ নেতাকে বাঁচাতে এনসিপি নেতার তোড়জোড়, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আহত জুলাই যোদ্ধা

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ০৯/১০/২০২৫ ১০:০৪ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার দুই নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আহত জুলাই যোদ্ধা মো. সাদিকুল ইসলাম রাব্বি। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে তিনি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও ঢাকা বিভাগের অঞ্চল সমন্বয়ক সাইফুল্লাহ হায়দার বরাবর ডাক ও ইমেইলের মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাদিকুল ইসলাম রাব্বি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কর্মী। আন্দোলনের সময় তার শরীরে ৩৬৫টি ছররা গুলি লাগে, যার মধ্যে ২৮৮টি গুলি এখনো শরীরে রয়ে গিয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন নি তিনি। মানিকগঞ্জে ছাত্র হত্যা ও আন্দলোনকারীদের উপর হামলার ঘটনায়, তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যার ফলে নতুন করে মামলা সংক্রান্ত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাকে।

রাব্বির দাবি, ওই মামলার তালিকা থেকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নাম বাদ দিতে তাকে চাপ দিচ্ছেন জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদ তালুকদার ও যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহফুজ।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেওয়ান মতিন—যিনি মামলার ৫৯ নম্বর আসামি—তার নাম বাদ দেওয়ার জন্যও রব্বিকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়াও রাব্বির আরও অভিযোগ, এনসিপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে তার নামে অর্থ সহায়তা তোলা হলেও তা তাকে এর কোন কিছুই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এঘটনায় আহত জুলাই যোদ্ধা রাব্বি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার শরীরে ৩৬৫টি গুলি লাগে। ৭৭টি গুলি বের করতে পারলেও বাকিগুলো এখনো শরীরে আছে। মামলার আসামিদের মধ্যে একজনের নাম বাদ দিতে আমাকে চাপ দিচ্ছে এনসিপির জেলা নেতা জাহিদ তালুকদার ও মাহফুজ। এখন আমি ভয়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। তারা আমার নামে টাকা তুলছে কিন্তু চিকিৎসার জন্য কিছুই দিচ্ছে না।”

অভিযুক্ত এনসিপি নেতা ও মানিকগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহফুজ তার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন বলেন, “রাব্বি যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি বা জাহিদ তালুকদার কাউকেই মামলা প্রত্যাহার করতে বলিনি, এছাড়াও এনসিপির নাম ব্যবহার করে টাকা তোলার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদ তালুকদার বলেন, “আমি রাব্বি নামে কাউকে চিনি না। তাছাড়া মামলাটির বিষয়েও আমার কোনো ধারণা নেই। ব্যক্তিগতভাবে বা সংগঠনের পক্ষ থেকেও তার ব্যাপারে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, “অভিযোগ পেলে আমাদের শৃঙ্খলা টিম অনুসন্ধান করবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ইমেইল পেয়েছি, বিষয়টি আমরা দেখব।” তিনি আরও বলেন, “নিউজ করার আগে আমাদের তদন্ত শেষ হওয়া উচিত। আমরা কিছু একটা ব্যবস্থা নিচ্ছি, এরপর মিডিয়াকে জানানো হবে।”

আহত জুলাই যোদ্ধা সাদিকুল ইসলামের অভিযোগ ও এনসিপি নেতাদের পাল্টা বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্তের আশ্বাস এলেও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সহায়তা—উভয় বিষয়েই স্থানীয় প্রশাসন এখনো নীরব।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com