উখিয়া উপজেলার ৪৩ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা পান্না আক্তার। তিনি ১৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর টানা দ্বিতীয় নারী হিসেবে এ পদে দায়িত্ব নেওয়াকে উখিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে! এর আগে ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রিফাত আসমা উখিয়ার প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে অত্যান্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
গত ২ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত সিনিয়র সহকারী কমিশনার পান্না আক্তারকে উখিয়ার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়।
উখিয়া উপজেলার দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে উপজেলা ও পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে তাঁর। এর আগে তিনি কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে রাজস্ব ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সীমান্তবর্তী অবস্থান, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, জলবায়ু ঝুঁকি এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার কারণে উখিয়াকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় নারী ইউএনও হিসেবে পান্না আক্তারের দায়িত্ব গ্রহণকে নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তার পান্না আক্তারের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ, কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব, সাহসীকতা ও দায়িত্ববোধ উখিয়ার প্রশাসনে নতুন গতি আনবে। তবে রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক জটিল বাস্তবতা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর কার্যকর ভূমিকার দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।
সূত্র: উখিয়া নিউজ