উখিয়ার ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবস্থিত কুতুপালং লম্বাশিয়া গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক স্থানীয় পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সোমবার (১৫ জুন) সকালে সিআইসি শরীফুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে এসে বিদ্যুৎ লাইনগুলো কেটে দেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসরত স্থানীয় পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
লম্বাশিয়ার বাসিন্দা সাদ্দাম জানান, হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা নোটিশ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন দাবি করেন, তারা পল্লী বিদ্যুতের বৈধ গ্রাহক এবং নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। তারপরও তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
গৃহবধূ আয়েশা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজাপালং ইউনিয়ন বিএনপির উত্তর শাখার আহ্বায়ক সাদমান জামী চৌধুরী লিখেছেন, “ন্যায্য অধিকার কিভাবে আদায় করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে।” তার এই বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
আইনজীবী সাফফাত ফারদিন চৌধুরী বলেন, বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকলে তা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিআইসি শরীফুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের জায়গায় স্থাপিত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতের উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিআইসি কার্যালয়ের কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ কেন বিচ্ছিন্ন করা হলো—এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কায়জার নুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের দাবি উঠেছে