1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ উখিয়ায় পুলিশ দেখে বন্দুক ফেলে পালালেন দুই দুর্বৃত্ত আগামীকাল প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসির পরীক্ষার ফলাফল সরকারি কোয়ার্টারে সাবলেট ৩১ অক্টোবরের মধ্যে না সরালে বাসা বাতিল উখিয়ায় গ্যাসের আগুন ১৫ দিন পর্যবেক্ষণে রাখবে বাপেক্স ক্ষমতায় যেতে ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ শুরু করেছে জামায়াত: রাশেদ খান সৌদি আরবের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ মুসলিম মনীষীর বই নিষিদ্ধের খবর ঘুমধুম সীমান্ত থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোস্তাক গ্রেফতার মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত

সৌদি আরবের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ মুসলিম মনীষীর বই নিষিদ্ধের খবর

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ৩০/১০/২০২৬ ১০:০৫ পিএম

সৌদি আরবের মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রচারিত একটি নথিতে প্রায় ১০০ জন মুসলিম লেখক ও চিন্তাবিদের বইয়ের তালিকা প্রকাশের পর বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব লেখকের বই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে পড়ার সুযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিটের নামে প্রচারিত তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সৌদি গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী আবদুল্লাহ আল-আওদাহ। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আবুল হাসান আলী নদভী, আবুল আ’লা মওদুদী, মালেক বেন্নাবি, ইউসুফ আল-কারজাভি ও মুহাম্মদ আল-গাজালির নাম রয়েছে। এ ছাড়া মুস্তফা আল-সিবাঈ, আবদুল ওয়াহহাব খাল্লাফ, আবদুল আজিজ আল-তারিফি, সাফার আল-হাওয়ালি, সালমান আল-আওদাহ ও আওয়াদ আল-কারনির মতো লেখকদের নামও রয়েছে।

তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের চিন্তাধারা ও গবেষণার বৈচিত্র্য, ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের চিন্তাবিদ থেকে শুরু করে সৌদি আরবের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি, এসব লেখকের বই তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নিষেধাজ্ঞার মানদণ্ড কী?

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মূল প্রশ্ন হলো, এসব লেখকের বই ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের একাডেমিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা প্রশাসনিক মানদণ্ড অনুসরণ করেছে। প্রতিটি বইয়ের বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো একাডেমিক পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না, সিদ্ধান্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কি না এবং একই লেখকের বিভিন্ন বইয়ের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তালিকাটি তৈরির ভিত্তি সম্পর্কে প্রতিবেদনগুলোতে কোনো সুস্পষ্ট আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নথিভুক্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ধর্মীয় ও একাডেমিক অঙ্গনে স্বীকৃত লেখকদের বই

তালিকায় থাকা কয়েকজন লেখকের ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সুপরিচিত বই রয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের গবেষক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আবুল হাসান আলী নদভী ও আবুল আ’লা মওদুদীর রচনাবলি ভারতীয় উপমহাদেশ ও পাকিস্তানের গবেষক এবং ধর্মীয় মহলে স্বীকৃত।

তালিকাভুক্ত কয়েকজন লেখক তাঁদের একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুরস্কার ও সম্মাননাও পেয়েছেন। তবে কোনো পুরস্কার পাওয়া কিংবা গবেষক মহলে খ্যাতি অর্জন করলেই একজন লেখকের সব রচনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয় না। একইভাবে, কোনো বইয়ের ব্যবহার সীমিত করার ক্ষেত্রেও এর পেছনের কারণ ও মানদণ্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া এসব লেখকের ঠিক কোন কোন বই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেগুলো পড়াশোনা নিষিদ্ধ কি না, তা জানতে আরও সুনির্দিষ্ট নথিপত্রের প্রয়োজন।

পড়াশোনা ও গবেষণায় বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ

তালিকাটি প্রকাশের পর একাডেমিক তদারকি এবং ভিন্নমতের বই পড়ার সুযোগ সীমিত করার মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচকদের যুক্তি, সুস্পষ্ট কারণ না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে লেখকদের বই সরিয়ে রাখলে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানার এবং সেগুলো সমালোচনামূলকভাবে পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রম নির্বাচন এবং লাইব্রেরির নিয়মকানুন নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। তাই মূল বিষয়টি কেবল নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকার অস্তিত্ব নয়; বরং এ ক্ষেত্রে অনুসৃত মানদণ্ডের স্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিধি এবং এর পক্ষে একাডেমিক যুক্তি তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মহলে মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টির বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখনো কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এই তালিকা কি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার অংশ, নাকি এটি নির্দিষ্ট কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বই পড়ার সুযোগের ওপর আরও বিস্তৃত বিধিনিষেধের ইঙ্গিত দিচ্ছে? বই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কি নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড রয়েছে এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সেগুলো কি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয়েছে?

ফাঁস হওয়া নথিতে নিষিদ্ধ লেখকদের তালিকায় আবুল হাসান আলী নদভী, আবুল আ’লা মওদুদী, মালেক বেন্নাবি ও ইউসুফ আল-কারজাভিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম

হাওজা নিউজ এজেন্সি

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com