বরিশালে গ্রেফতার এড়াতে পালাতে গিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেননের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে বরিশাল নগরীর ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাউনিয়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ নগরীর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কাউনিয়া থানা পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেনন একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি। এছাড়াও তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রোববার দুপুরে গ্রেফতার করতে তার বাসায় যায় কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই খবর পেয়ে রাশেদ খান মেনন আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার না করেই ফিরে আসে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ গ্রেফতার করতে আসছে- এমন খবরে রাশেদ তার ভবনের ছাদে উঠেন। তারপর রাশেদ তার ভবন থেকে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আতিকের ভবনের ছাদে লাফ দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে লাফিয়ে নিচে নামে রাশেদ। বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে পার্শ্ববর্তী গোরস্থান দিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ির কাঁচা সড়ক দিয়ে দৌঁড়ে পালাচ্ছিলেন, তখন পা পিছলে পরে যান তিনি। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পালানোর সময় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। এছাড়াও তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৃত রাশেদের বড় ছেলে সাহেল বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। বাবা পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে এমন খবর আমায় জানানোর পর এসে দেখি বাবাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হচ্ছে। তারপর তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কাউনিয়া থানার ওসি সনজিত নাথ জানান, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাসায় গিয়েছিল। তাকে বাসায় না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পেরেছি তিনি মারা গেছেন।