1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor

অসহায় ও সম্বলহীন দেখিয়ে প্লট নেন রেহানা, আজমিনা ও রাদওয়ান মুজিব

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৫ ৯:৪৭ এএম

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় দ্বিতীয় দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে এ তিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য দেন রাজউকের তিন কর্মকর্তা। এরা হলেন- রাজউক উপপরিচালক মো. মাহবুবার রহমান, সহকারী পরিচালক অসীম শীল ও পরিচালক উল্লাস চৌধুরী।

এসব সাক্ষীরা রেহানার পক্ষ থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে প্লট বরাদ্দের আবেদনের চিঠি এবং আসামিদের মিথ্যা হলফনামাসহ জব্দ তালিকার ৪৪টি নথির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও তার সন্তানরা তিনটি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। কারণ তাদের ঢাকা শহার এবং আশপাশে শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি থাকা সত্ত্বেও রাজউকে মিথ্যা হলফনামা দিয়েছেন। সেখান তারা জানিয়েছেন ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জের আশপাশে তাদের কোন বাড়িঘর নেই বা অন্য কোনো সম্পত্তি নাই। নিজ নামে বা পোষ্যদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। যেহেতু তাদের সম্পত্তি নেই সেহেতু তারা অসহায়। সম্পত্তি, ফ্ল্যাট ও প্লট দরকার সেকারণে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

এর আগে এসব মামলায় সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান।

গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন একই আদালত। চার্জ গঠন শুনানির সময়ে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন মামলায় শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২০ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ ও ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ আদালতে তিনটি করে মোট ছয়টি মামলা বিচারের জন্য পাঠানো হয়।

শেখ পরিবার ছাড়া এসব মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। সম্প্রতি সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। আসামিরাও পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com