1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor

অপারেটর জটিলতায় অচল ৮৩০০ কোটি টাকার এসপিএম

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৭/০৪/২০২৬ ৯:৪৫ পিএম

শুধুমাত্র অপারেটর নিয়োগের জটিলতায় দুই বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে ৮ হাজার ৩০০ কোটির এসপিএম। অথচ প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে এক লাখ টন তেল খালাসে সময় লাগে অন্তত ১১ দিন, সেখানে এসপিএমে তা সম্ভব মাত্র ৪৮ ঘন্টায়। আর সরকারের সাশ্রয় হতে পারতে রাষ্ট্রের ৮০০ কোটি টাকা।

কিন্তু জ্বালানী সংকটের এই অস্থির সময়ে সাগর থেকে সরাসরি ডিপোতে জ্বালানী সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা। কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং বা এসপিএমের মাধ্যমে তেলের মজুদ ও সাশ্রয়ী পরিবহনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে জ্বালানি তেল খালাস, পরিবহন ও মজুদের আধুনিক ব্যবস্থা-সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং বা এসপিএম। কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনও চালু হয়নি এই মেগা প্রকল্প। এখানে ছয়টি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক খালি পড়ে আছে। তিনটিতে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন ক্রুড অয়েল এবং বাকি তিনটিতে ৭৫ হাজার টন ডিজেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে।

পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম জামান নাহিদ রায়হান বলেন, ডাবল পাইপলাইন ব্যবস্থার ফলে একই সঙ্গে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল পরিবহন করা সম্ভব। নিয়মিত যদি আমদানি করা গেলে জ্বালানি পরিবহন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্বল্প সময়ে তেল খালাসের মাধ্যমে দেশের মজুদ সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হতো।

এসপিএম ব্যবস্থায় বঙ্গোপসাগরে নোঙর করা বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল খালাস হয়ে পৌঁছাবে মহেশখালীর টার্মিনালে। সেখান থেকে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনে যাবে চট্টগ্রামের শোধনাগারে। যার ১৪৬ কিলোমিটারই সমুদ্রের তলদেশে।

পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম জামান নাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, কমিশনিং সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের কিছু অপারেশনাল বিষয় ও ফাংশনাল টেস্টের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওয়ারেন্টি বা ডিফেক্ট লাইবিলিটি পিরিয়ড ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অসম্পূর্ণ কাজের কারণে তা আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রকল্পের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, তিনটি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কের প্রতিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ১ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছায়। এছাড়া তিনটি ডিজেল ট্যাঙ্কের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার মেট্রিক টন করে, মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।

এদিকে, এসপিএম বয়া এলাকায় মাদার ভেসেল নোঙরের সময় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে টাগবোটসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক জাহাজ ব্যবহার করতে হবে। এসব সহায়ক জাহাজ, জনবল ও সংশ্লিষ্ট অপারেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্টরকে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে; নিয়োগ সম্পন্ন হলেই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে এক লাখ টন তেল খালাসে সময় লাগে অন্তত ১১ দিন, সেখানে এসপিএমে তা সম্ভব মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। এতে কমবে সময়, খরচ এবং পরিবহনজনিত অপচয়। চীনের অর্থায়নে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির অপারেটর নিয়োগে জটিলতায় বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম। বিশেষ আইন বাতিলের পর উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।

পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম জামান নাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, ডাবল পাইপলাইনসহ এসপিএম প্রকল্পটি এখনো চালু হয়নি মূলত অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (ওঅ্যান্ডএম) কন্ট্রাক্টর নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায়। তবে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসারে টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফার টেন্ডার রেসপন্সিভ না হওয়ায় পুনরায় রি-টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত করা গেলে দ্রুতই প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এসপিএম চালু হলে বছরে ৯০ লাখ টন জ্বালানি খালাস ও পরিবহন সম্ভব হবে এবং সাশ্রয় হতে পারে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
এই প্রকল্প চালু থাকলে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল মজুদ রাখা সম্ভব হতো। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় এটি বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পারত মনে করছেন কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি শেখ আশিকুজ্জামান বলেছেন, এসপিএম প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ ব্যবস্থায় ক্রুড অয়েল খালাসে সময় কম লাগে, ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি অপারেশনাল দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আগের পদ্ধতিতে যে অপচয় বা ওয়েস্টেজ হতো, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বিপুল বিনিয়োগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি দ্রুত চালু করা জরুরি। বর্তমানে কিছু প্রস্তুতিমূলক ঘাটতি থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করা গেলে দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

“প্রকল্পটিতে প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং প্রায় এক সপ্তাহের ডিজেল মজুদ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। তাই দ্রুত অপারেটর নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন শেখ আশিকুজ্জামান।”

এদিকে সাগরে এসপিএম বয়া এবং মহেশখালীর কালারমারছড়ায় স্থাপিত এসপিএম ট্যাংক ফার্ম ও অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শনে আসছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তারা শুক্রবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেক এসপিএম বয়া এবং এফএসআরইউ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এসপিএম বয়া এবং এফএসআরইউ পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিটে মাতারবাড়ি জেটিতে অবতরণ করে এলএনজি এবং এলপিজি টার্মিনাল (প্রস্তাবিত) এবং সিপিজিসিবিএল এর কোল বেইসড পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করবেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত এসপিএম ট্যাংক ফার্ম ও অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। এরপর জিটিসিএল এর সিটিএমএস পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের।

সূত্র: দৈনিক কক্সবাজার

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com