1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী এবার ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার নির্দেশ, প্রতিবেদন তলব ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি: জামায়াতের ভাইরাল এমপি নজরুল নারীর সঙ্গে সেই ভাইরাল ভিডিও: জামায়াত এমপি বললেন তাকে ব্ল্যাকমেইল ও চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর ৩ সদস্য আটক সবুজায়নের বার্তা: এমপি শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিতে উখিয়া কলেজে বৃক্ষরোপণ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন মোজাফফর খালি পায়ের শিশু আফিফার আর্তিতে মমতার হাত বাড়ালেন ইউএনও পান্না আক্তার মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২২/০৭/২০২৬ ২:৫৫ এএম

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং তার দাবি করা দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম আলোচিত তরুণী মরিয়ম খাতুনকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, বিয়ের কাবিননামা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে তার সমর্থকদের একটি অংশ ভিডিওগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ভিডিওতে থাকা মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

তবে বিয়ের দাবির পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামা নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এমপি দাবি করেছেন, গত ১৭ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা বি.এ.এম. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, বিয়ে কোথায় বা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

তিনি জানান, গত সোমবার গভীর রাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয় যে ঢাকায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধনের দায়িত্ব তাকে নিতে হবে। পরে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেন।
কাজী আরও বলেন, কনের বাবা ফোনে সম্মতি দেন এবং পরদিন সকালে কনে ও তার অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। তার দাবি, ১৭ জুনকে বিয়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করার নির্দেশনাও ফোনেই দেওয়া হয়েছিল।

তবে কথোপকথনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যায়। একদিকে তিনি বলেন, বিয়ের তারিখ ১৭ জুন নির্ধারণ করে দিতে তাকে বলা হয়েছিল, অন্যদিকে জানান, প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেই তিনি পেয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ভাই, আমি যাতে বিপদে পড়ে না যাই, আমাদের কেন বিপদে ফেলেছেন’ বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে ভিডিও ভাইরালের পর পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, পারিবারিকভাবে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘জামায়াত হয়ে এই কাজ কীভাবে করলেন?’ এবং ‘অন্যায় করেছেন কিনা?’—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি মাথা নেড়ে বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম।’

একপর্যায়ে তরুণীর নাম জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর ‘মাহি’ নাম উল্লেখ করেন। একই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা ভিডিও ডিলিট করে দেন, সবকিছু বলছি।’

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় মরিয়ম খাতুনের জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মরিয়মের একটি বায়োডাটায় গত ২২ জুন গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সুপারিশ রয়েছে। ওই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশ্ন, যদি ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে ২২ জুনের বায়োডাটায় তাকে অবিবাহিত দেখানো হলো কেন? এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও চাপা অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে। তবে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভিডিও, কাবিননামা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন সামনে এলেও, পুরো ঘটনার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com