জামায়াতের উপজেলা আমির বলেন, দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে চেয়ারম্যান পদে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার জামায়াতের ইসলামীর এক সভায় উল্লাপাড়া উপজেলা ও ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং পৌরসভার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
উপজেলার জিকিরা আবু হুরায়রা এতিমখানায় অনুষ্ঠিত সভায় সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত প্রার্থী তালিকার মধ্যে উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেনর নাম রয়েছে।
আবু হানিফ বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গত ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তবে পরাজিত হন। তখন দলীয় নির্দেশনা অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়।
অপরদিকে সাদ্দাম হোসেন বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কাজ করেন। তখন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করেছিল দল।

এদিন সভার শুরুতে আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। পরে তাদের প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এই দুই নেতার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় মেতে ওঠেছেন।
এর বাইরে আরও দুজন ব্যক্তির মনোনয়ন নিয়েও আলোচনা চলছে; যারা একসময় স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উল্লাপাড়া উপজেলায় মোট ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।
প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবু হানিফ বলেন, “এক সময় আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। এরপর দল থেকে আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”
বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বলেন, “যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কাজ করেছেন। এজন্য উপজেলা যুবদল তাকে বহিষ্কার করেছে।”
এ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, “আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করায় তাদের ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”