সাদিয়া আক্তার মিলি (৩৫)| কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকার এই গৃহিণীকে এতদিন গৃহস্থালি কাজসহ সব প্রয়োজনে পানি সংগ্রহ করতে হতো অর্ধ কিলোমিটার দূরের মসজিদের একটি গভীর নলকূপ থেকে| কারণ, তাদের এলাকার অধিকাংশ নলকূপে আর পানি পাওয়া যাচ্ছিলো না| যা একটু পাওয়া যেতো, তা-ও লবণাক্ত| আর পৌরসভার সরবরাহ করা পানিও ছিলো মানহীন| এতে তার যৌথ পরিবারের ২৫ সদস্যের মতো ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন ৩২.৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার পৌরসভায় অন্তত ৫ লাখ মানুষ| প্রায় ৬ হাজার বসতির এই শহরে গভীর-অগভীর নলকূপের সংখ্যাও ২০ হাজার ২৭৬টি| অধিকাংশ নলকূপের একই দশা|
এই সংকট নিরসনে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা করেছে সরকার| যা বাস্তবায়ন করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। যেখানে বাঁকখালী নদীর পানি ছয় ধাপে পরিশোধন করে পুরো কক্সবাজার পৌরসভায় সরবরাহ করা হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে এর পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। এ সরবরাহ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোক্তাদির, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নসরুল্লাহ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও কক্সবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ শাখা) মোঃ শাহনেওয়াজ|
নিজের ঘরে পানের উপযোগী এ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গৃহিণী সাদিয়া আক্তার মিলি| তার ভাষ্য, “যৌথ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো, তা এই পানির সংযোগে লাঘব হবে। এতে আমদের জীবনে স্বস্তি ফিরেছে|”
একই সুরে আনন্দ প্রকাশ করলেন কালুর দোকান এলাকায় কর্মজীবী নারী সালমা আক্তার| তার ভাষ্য, “৫ বছরের দুর্ভোগ লাঘব হবে আমাদের। এতোদিন পানির সমস্যায় জীবন বিষিয়ে উঠেছিলো।”
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ পানির মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে সরবরাহ লাইনের প্রায় কাজ শেষ হয়েছে এবং ৫টি ওয়াটার ট্যাংকে পানি মজুদ শুরু করা হয়েছে| তিনি নিশ্চিত করেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে পৌরসভার ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে| জুন মাসের মধ্যে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে পুরোদমে পানি সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।”
কক্সবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ শাখা) মোঃ শাহনেওয়াজ অবগত করেন, “গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যসের পাইপে এ পানি সরবরাহ করবে পৌরসভা। এর জন্য গ্রাহকদের পৌরসভা আবেদন করতে হবে। গ্রাহকদের আবেদন অনুসারে প্রতিটি ঘরে পানির সংযোগ দেয়া হবে।”
জরুরি সহায়তা প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মোঃ রশিদুল আলম জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন পানি সংযোগ দেয়া হবে। পরে চাহিদা অনুযায়ী হয়তো রেশনিংয়ে যেতে হতে পারে। ধাপে ধাপে পুরো পৌর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি অবগত করেন, পানি সরবরাহ জোরদারে ৬৮ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পাঁচটি ওয়াটার ট্যাংক পৌরসভার আলাদা স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরবরাহ লাইন ও কমিউনিটি টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টিটিএন