1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ

মালয়েশিয়ার ‘কুকুমু’ সিন্ডিকেটের শীর্ষ মানবপাচারকারী ইয়াছিন অধরা

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২৫/০৪/২০২৬ ৩:৫৮ পিএম

সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে কোটিপতি হওয়ার নেশায় বিভোর ডাকাত ইয়াছিন নামের এক ভয়ংকর মানব পাচারকারী। সম্প্রতি ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ২৫০জন যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনার পরে টেকনাফ উপজেলায় শতাধিক দালালের নাম উঠে আসলেও অদৃশ্য কারনে চাপা পড়ে রয়েছে ইয়াছিনে নাম। তার বিরুদ্ধে ৫টি মানবপাচার ও একটি হত্যা মামলাসহ অন্তত ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিন মহেষখালিয়া পাড়ার আনজন হোসেনের ছেলে ইয়াছিন উরুফে দালাল ইয়াছিন। বিগত সময়ে একজন বখাটে যুবক অভাবের তাড়নায় জড়িয়ে পড়ে রোহিঙ্গা ডাকাত সিন্ডিকেটের সঙ্গে। ২০২০ সালের দিকে শুরু করে অপহরণের পর মুক্তিপন আদায় এবং মালয়েশিয়া আদম পাচার।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০২৩ সালে টেকনাফে পাত্রী দেখতে গিয়ে কক্সবাজারের তিন বন্ধু রুবেল, ইউসুফ, ইমরানকে অপহরণ করে হত্যার পর থেকে সোনালী ডাকাতের সহযোগী হিসেবে আলোচনায় আসে ইয়াছিনের নাম। ওই হত্যা মামলায় তাকে ৩নং আসামী করা হয়েছিলো বলে জানাগেছে।

অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, ইয়াছিনের মানব পাচার সিন্ডিকেটে রয়েছে অন্তত অর্ধডজন মানব পাচারকারী দালাল। তারা হলেন- দক্ষিন মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার আব্দুল হাসিমের ছেলে মাহমুদুল হক ও আজিজুল হক উরুফে আজু, ইউসুফ জালালের ছেলে মৌলভী শফিক উরুফে দালাল শফিক।

আনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এই দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে অন্তত দুই ডজন লোক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুসলিয়ে মানুষজন সংগ্রহ করে টেকনাফ নিয়ে আসে ইয়াছিনের সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয় চক্রটি। বিনিময়ে মাথাপিছু দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা। পরে ইয়াছিন এসব ভিকটিমদের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়া ও দক্ষিন মহেষখালিয়া পাড়া বিভিন্ন গোপন আস্তানায় রাখে। সেখান থেকে সুবিধামত সময়ে মালয়েশিয়া পাচার করে দেয়। মালয়েশিয়াতে রয়েছে ইয়াছিন সিন্ডিকেটের মূল এজেন্ট “কুকুমু” নামের এক দালাল। পাচারকৃতদের নিয়ে ট্রলার থাইল্যান্ডে পৌছানোর পর থাইল্যান্ড থেকে ইয়াছিনের চিহ্নিত ব্যক্তিদের মালয়েশিয়া নিয়ে যান ‘কুকুমু’। মালয়েশিয়া থেকে ভিক্টিমদের পরিবারকে ইয়াছিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ইয়াছিন জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা করে আদায় করে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইয়াছিনের সাথে আদম পাচার করে এমন এক দালাল জানান, সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলারে ইয়াছিনের পাচারকৃত অন্তত ৬ জন ভিকটিম রয়েছে। তবে তারা জীবিত আছেন কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

এই পর্যন্ত ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ৫টি মানব পাচার মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, আদম পাচারকারীদের ধরতে পুলিশের কয়েকটি গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। আন্দামান ট্রাজেডির পর অধিকাংশ পাচারকারী গা ঢাকা দিয়েছে। তবে যে কোন কিছুর বিনিময়ে দালালদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com