
কক্সবাজারের সাগর বেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় লবন চাষের জন্য প্যারাবন ধ্বংস করে বাঁধ নির্মাণ করছে একটি সিন্ডিকেট। উপজেলা সদর বড়ঘোপ ষ্টীমার ঘাটের উত্তর পাশে উপকূলীয় বন বিভাগের সৃজিত প্যারাবন বাগানে মাটি কেটে চলছে এই নিধনঝজ্ঞ।
খবর পেয়ে শনিবার (১ নভেম্বর) বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপকূলীয় বন বিভাগের কুতুবদিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা। এসময় মাটি কাটার স্বেভেটর রেখে সঁটকে পরে চক্রটি।
উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দ্বীপের ভাঙন রোধে বড়ঘোপ ঘাটের উভয় পাশে শতাধিক একর প্যারাবন রয়েছে। পাশেই দখল স্বত্বে খাস জমিতে লবন চাষ হচ্ছে দীর্ঘ দিন যাবত। চলতি লবন মওসুম শুরুতে সেখানে অন্তত ৫০টি প্লটে লবন চাষের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই মহলটি স্কেভেটর ভাড়ায় এনে বাধেঁর বাইরে বন বিভাগের প্যারাবন থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করছে।
এতে প্যারাবনে গাছের গোড়ায় থেকে মাটি নেয়ায় মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে প্যারাবন তথা উপকূল।
লবন মাঠে কাজ করা লবন চাষি নেজাম জানান, ১৬ গন্ডার প্রতি প্লটের জন্য খরচ বাবদ ৩০০ টাকা করে তোলা হয়েছে বন বিভাগের জন্য। জোয়ারের পানি রোধে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। খাল থেকে মাটি কিছু নেয়া হয়েছে। বাঁধে দিতে প্যারাবন থেকেও কিছু মাটি নেয়া হয়েছে । বিগত সময়ে বাহির থেকে মাটি নেয়ার প্রয়োজন হয়নি বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, কতিপয় লবন চাষি ও স্থানীয় একটি সংগঠনের নামে ভাড়ায় স্কেভেটর এনে বাঁধ নির্মাণ করছে। সেখানে লাভের একটা অংশ সমিতি পায়।
স্থানীয়রা জানায়, লবন চাষ, বাঁধ নির্মাণে কোন সমস্যা নাই। প্যারাবন থেকে মাটি কাটায় মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বাগান। যা পরিবেশের জন্যও হুমকি। বন বিভাগের অফিসের মাত্র ৫০০ গজ অদূরে প্যারাবনে মাটি কাটার বিষয়টিও রহস্যজনক মনে করেন স্থানীয়রা।
উপকূলীয় বন বিভাগের কুতুবদিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তাদের অগোচরে একটি মহল রাতে প্যারবন থেকে মাটি কাটার খবর পেয়ে শনিবার সেখানে যান। এসময় চালক ছাড়া একটি স্কেভেটর পড়ে ছিল। স্কেভেটরের মালিক, চালক কাউকেই পাওয়া যায়নি। মাটি কাটার যন্ত্র নিতে আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।