
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে অবসান হলো দ্বীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রতিক্ষা। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি ও জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশন। এর আগে বুধবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। ভোটগ্রহণ করা হয় ব্যালট পেপারে, আর গণনা করা হয় ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে।
চাকসুর ১৪টি হলের ফলাফল অনুযায়ী শিবির সমর্থিত ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছে ৪ হাজার ৩৭৩ ভোট। জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব ভোট পেয়েছেন ৮ হাজার ৩১, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪৯ ভোট। অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস পদে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪, শিবির সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট।
এবারের নির্বাচনে ২৩২ পদে ১৩টি প্যানেলের মোট প্রার্থী ছিলেন ৯০৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৮ জন।
নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফলাফল প্রকাশের আগে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত একটার দিকে দুই হলের ভোট কারচুপির অভিযোগে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে আইনশৃংখলা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মুক্ত হন।
এর আগে দিনভর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলেও ফলাফল প্রকাশের আগে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।