
কক্সবাজার জেলার সিএনজি অটোরিক্সা ও টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে উখিয়া উপজেলায় চরম বিশৃঙ্খলা ও তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন ছাড়াই জেলা পর্যায় থেকে মৌখিকভাবে গঠিত একটি অবৈধ কমিটি দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যা শ্রম আইন ও আদালতের নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন।
সূত্র জানায়, প্রথমে “কক্সবাজার জেলা সিএনজি অটোরিক্সা টেম্পো সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন” নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট ওই জেলা কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। অথচ সেই বাতিল হওয়া কমিটির অনুমোদন দেখিয়ে নির্বাচন ছাড়াই মৌখিকভাবে গঠন করা হয় “উখিয়া উপজেলা সিএনজি, অটোরিক্সা টেম্পু সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কমিটি” ।
অভিযোগ রয়েছে, ঘোষিত উপজেলা কমিটিতে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই জানেন না কীভাবে তারা কমিটির সদস্য হয়েছেন। কমিটির কোনো নথিতে সদস্যদের স্বাক্ষর নেই, নেই নিজস্ব কার্যালয়। এমনকি সমিতি পরিচালনার জন্য নির্ধারিত শর্তাবলিও মানা হয়নি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে এক বছরের জন্য জেলা কমিটিকে অবৈধভাবে অনুমোদন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট ওই কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করেন। কিন্তু আদালতের সেই রায়ের পরও বাতিল হওয়া কমিটি এখনো বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ মাসে কক্সবাজার জেলা সমিতির কাছে একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা টেম্পো পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: চট্ট-১৪৯১) এর ঘোষিত কমিটি দপ্তর কর্তৃক গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমিতির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, উখিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে “উখিয়া অটোরিক্সা ফোর-স্ট্রোক সিএনজি শ্রমিক কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি”। পাশাপাশি পুরাতন কমিটি বাতিল করে নতুন করে গঠিত হয়েছে “উখিয়া উপজেলা সিএনজি, অটোরিক্সা টেম্পু সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন”। এসব বৈধ সংগঠন থাকা সত্ত্বেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও হাই কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত একটি সমিতিকে নতুন করে উখিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রম অধিদপ্তরের চিঠিতে জেলা কমিটির নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করে সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ থাকলেও, সেই কমিটির অধীনে গঠিত উপজেলা কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উপরন্তু, অভিযোগকৃত উপজেলা কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত উখিয়া উপজেলা সিএনজি, অটোরিক্সা টেম্পু সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিস্ত্রি বলেন, “গত বছর আহছান উল্লাহ ও মোরশেদের নেতৃত্বে যে কমিটি আনা হয়েছিল, তা শ্রম অধিদপ্তর বাতিল করেছে। বর্তমানে আমাদের উখিয়া উপজেলা কমিটির বৈধ অনুমোদন থাকলেও আমরা সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না। আহছান উল্লাহ ও মোরশেদ জোরপূর্বক সিএনজি লাইন নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- অবৈধ ও দখলদার কমিটির কথা না শুনে আমাদের বৈধ কমিটিকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।
অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি শামসুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে আহছান উল্লাহ ও মোরশেদের নেতৃত্বে অবৈধ কমিটির লোকজন আমাদের সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর করেছে। গাড়িচালক ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে এই চাঁদাবাজ অবৈধ কমিটিকে উখিয়া থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।
এ বিষয়ে শ্রমিকদের দাবি, অবিলম্বে হাইকোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত কমিটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে আদালত ও শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ সংগঠনগুলোর মাধ্যমে উখিয়ার সিএনজি ও অটোরিক্সা শ্রমিকদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তারা কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়ক অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।