রামু প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত জুমাবার (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে এক মিলনমেলা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অভিষেক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-০৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। রামু প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আহমদ ছৈয়দ ফরমানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল কাসেম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার কারণে স্থানীয় সাংবাদিকরা এখন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠায় কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও স্থানীয়দের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে সমাজ ও দেশের কল্যাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় সবাইকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন তারা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আকতার উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার ও ছড়াকার নাছির উদ্দীন, রামু উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু, রামু প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমির হোছাইন হেলালী, প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক এস. মোঃ হোসেন (বি.কম), জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার নারী কোর্টের এপিপি এডভোকেট শওকত ওসমান এবং দৈনিক ইনকিলাবের আঞ্চলিক প্রধান শামসুল হক শারেক। অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
গুণিজন সংবর্ধনা পর্বে রামু প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য সুলতান আহমদ মনিরী, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাধন কুমার দে এবং লেখক, ছড়াকার ও গীতিকার ধনীরাম বড়ুয়াকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রামু প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমির হোছাইন হেলালী ও প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক এস. মোহাম্মদ হোসেনকে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রামু প্রেস ক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকতার অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অনুষ্ঠানের শেষে দর্শকেরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।