
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) গত ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিচালিত দুই শতাধিক বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিযানে অত্যাধুনিক ইউজেটআই সাব-মেশিন গান, পিস্তল, রিভলবার, ওয়ান শুটারগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে মোট ১টি সাব-মেশিন গান, ১টি পিস্তল, ১০টি ওয়ান শুটারগান (পরিত্যক্তসহ), ৪টি একনলা বন্দুক, ১টি রিভলবার, ৩০ রাউন্ড গুলি, একাধিক ওয়াকিটকি সেট এবং ট্যাকটিক্যাল বেল্ট ও পিস্তল কাভারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ২ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার এই পরিমাণ বিগত ২০২৪ সালের পুরো বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ৮ এপিবিএনের অনমনীয় অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবার নির্মূলে তারা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছেন। গত ছয় মাসে অর্জিত সাফল্য বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী চক্রকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত ১০৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পানবাজার, ময়নারঘোনা ও শফিউল্লাহকাটাসহ মোট ১১টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।