দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতের মহিলা সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং উদ্বেগজনক।
সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে দেওটি ইউনিয়নের উত্তর দেওটি মাঈন উদ্দিন ব্যাপারি বাড়িতে জামায়াতের মহিলা শাখা আয়োজিত কুরআন তালিম অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কর্মী অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কে জড়ান এবং একপর্যায়ে চেয়ার ভাঙচুর করে অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া মাদ্রাসা মাঠে একইদিন জামায়াতের পূর্বনির্ধারিত উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়া হয়। এর আগে ২০ অক্টোবর ফেনীর ফাজিলপুরে এবং ৯ অক্টোবর নোয়াখালী পৌরসভার মধ্যম করিমপুরে মহিলা জামায়াতের কুরআন তালিম কর্মসূচিতে একইভাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, “সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এ ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান ডেকে আনতে পারে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা — আর তা আজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়েছিলাম, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আবারও উদ্বেগ তৈরি করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের মহিলা সদস্যদের ওপর হামলা নারীদের রাজনৈতিক অধিকার হরণের শামিল।”
নূরুন্নিসা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এসব হয়রানি বন্ধ করবে। পাশাপাশি বিএনপি তাদের দলের কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মীর এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।”
তিনি দেশের সব গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তার মানুষকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।