
কক্সবাজারের পেকুয়ায় আসিফুল ইসলাম (২২) নামের এক কলেজ ছাত্রের ‘আত্মহত্যা’কে কেন্দ্র করে প্ররোচনায় জড়িতদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পেকুয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আসিফ চট্টগ্রাম কলেজের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী৷ এলাকার শান্তশিষ্ট স্বভাবের একজন ছেলে সে। কয়েক বছর আগে পেকুয়া সদর ইউপির ভোলাইয়্যাঘোনা এলাকার সাহেদ ইকবালের মেয়ে নুরী জন্নাত প্রকাশ পুতুমনি প্রেমের ফাঁদে পেলে কলেজ ছাত্র আসিফকে।
আসিফের বাবা এবং বড় ভাই বিদেশে থাকার সুবাদে তাঁদের প্রচুর অর্থ-সম্পদ রয়েছে। মূলত সেদিকেই নজর পড়ে প্রেমিকা নুরী জান্নাতের৷ সেই থেকেই তার উদ্দেশ্য ছিলো ছলনা করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকাপয়সা আত্মসাৎ করা। মেয়েটির মা-বাবাসহ পুরো পরিবার পেকুয়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ-সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অসংখ্য বার মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিলো।
বক্তারা দাবী করেন, ‘সর্বশেষ আসিফের কাছ থেকে টাকাপয়সা আত্মসাৎ করে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অবশেষে তাদের প্ররোচনায় পড়ে গত সোমবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে৷ ‘
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আসিফকে আত্মহত্যা প্ররোচনায় সহযোগিতাকারীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। ‘
নিহত কলেজ ছাত্র আসিফের চাচা হেলাল উদ্দিন টিটিএন’কে জানান, ‘এটি আত্মহত্যা নয়, বরং এটি একটি নির্মম হত্যাকান্ড। আমার ভাতিজাকে তারা আত্মহত্যা করতে একপ্রকার বাধ্য করেছে। আমরা এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিবো।’
এসময় নিহত কলেজ ছাত্র আসিফের পরিবার, বন্ধুবান্ধবসহ অসংখ্য স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে
গলায় রশি পেঁচিয়ে আসিফ নামের এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করে।
উপজেলার সদর ইউপির শেখেরকিল্লা ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজ ছাত্র আসিফ একই এলাকার সৌদি প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং চট্টগ্রাম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
সূত্র: টিটিএন