1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আবু সিদ্দিক টেকনাফে গ্রেফতার যারা সংস্কার সংস্কার করে তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না: প্রধানমন্ত্রী ৩৩ মরদেহ সাগরে ফেলার লোমহর্ষক বর্ণনা দেওয়া রফিকুলকে প্রাণনাশের হুমকি নৌবাহিনীর অভিযান: মিয়ানমার পাচারকালে সিমেন্টসহ আটক ১১ জন, বোট জব্দ অ্যাডভোকেট শামীম আরা,নারী এমপি হয়ে ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছেন কক্সবাজারে ৫৪ টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ২৬ হাজার ৭৪৭জন : মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মাতামুহুরী থেকে বালু উত্তোলন, গ্রেপ্তার ২

৩৩ মরদেহ সাগরে ফেলার লোমহর্ষক বর্ণনা দেওয়া রফিকুলকে প্রাণনাশের হুমকি

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২০/০৪/২০২৬ ৮:০৫ পিএম

আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ভয়াবহতা থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও স্বস্তিতে নেই কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (২৭)। উখিয়ার ক্যাম্প-৬-এর এ-৫ ব্লকের এই বাসিন্দা এখন মানব পাচারকারী চক্রের অব্যাহত হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করার পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা তাকে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি যে ট্রলারে করে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন, সেই ট্রলারের মালিক ছিলেন ছৈয়দ মাঝি। এই ছৈয়দ মাঝি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম আরও জানান, ছৈয়দ মাঝির বড় ভাই মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং তারও একাধিক ট্রলার রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই ব্যক্তি ‘নানা মাঝি’ নামে পরিচিত। রফিকুলের অভিযোগ, রোববার বিকেল ৩টার পর নানা মাঝি তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বকাঝকা করেন। একই সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে তাকে ক্যাম্প থেকে তুলে নেওয়া হবে। নানা মাঝি দাবি করেছেন, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে তার শক্তিশালী লোকবল রয়েছে।

রফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মিনিট ধরে চলা সেই কলের পর তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে ফোন কেটে দিতে বাধ্য হন। তিনি দাবি করেন, নানা মাঝি মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রভাবশালী দালাল হিসেবে পরিচিত।

গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে চড়েছিলেন প্রায় ২৮০ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিক ছিলেন। রফিকুলের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, মাঝসমুদ্রে খাবার ও পানির তীব্র সংকট তৈরি হলে যাত্রীরা হৈ-চৈ শুরু করেন। এর পরিণতিতে ট্রলারের ৪টি গোপন কক্ষে আটকে রেখে অন্তত ৩৩ জনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ট্রলারটি উল্টে গিয়ে আরও বহু যাত্রীর সলিল সমাধির আশঙ্কা তৈরি হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পের এক পরিচিত যুবক তাকে টেকনাফ বন্দরে কাজের প্রলোভন দেখায়। ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরির আশ্বাসে গত ২ এপ্রিল বিকেলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি গুদামঘরে আটকে রাখা হয়। কাজের কথা জিজ্ঞেস করলেই দালালরা তাকে মারধর করত এবং দিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো।

তিনি জানান, তাদের টেকনাফের রাজারছড়া গ্রামের ভেতরে রাখা হয়েছিল। পরে রাতে বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে বিজিবি ক্যাম্পের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০-২০ জন করে ছোট ট্রলারে তুলে সাগরের চামেলী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি বড় ট্রলারে রাত ৯টার দিকে তোলা হয় এবং সব যাত্রী ওঠার পর রাত ১২টায় মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়।

রফিকুল জানান, ট্রলারে মোট প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। যার মধ্যে পুরুষ ২৪০ জন, নারী ২০ জন, শিশু ৪ জন এবং স্টাফ ১৩ জন। সেখানে খাবার ও পানির সংকট ছিল চরম। দিনে মাত্র দুবার সামান্য খাবার এবং খুবই সীমিত পানি দেওয়া হতো। কেউ অতিরিক্ত পানি চাইলে বা হৈচৈ করলে দালালরা তাদের ট্রলারের নিচে মাছ বা বরফ রাখার ৪টি গোপন কক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দিত।

রফিকুল বলেন, ‘প্রতিটি গোপন কক্ষে সাধারণত ২০ থেকে ২৫ জন রাখা সম্ভব হলেও, ঘটনার দিন একেকটিতে প্রায় ৪০ জন করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ৭ এপ্রিল রাত ২টার দিকে পানির জন্য প্রতিবাদ করলে আমাদের গোপন কক্ষের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ভেতরে শ্বাস নিতে না পেরে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তিনটি গোপন কক্ষ খুলে ৩৩ জনকে মৃত অবস্থায় বের করে সাগরে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দালালরা।’

এর আধা ঘণ্টা পর আন্দামান সাগরের কাছে পৌঁছালে ট্রলারটি ঢেউয়ের ধাক্কায় ডুবতে শুরু করে। একপর্যায়ে একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। রফিকুল জানান, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ট্রলারের একটি ভাসমান অংশ ধরে ছিলেন। সেটিও ডুবে গেলে তিনি সাগরে ভেসে থাকেন। চারপাশে নারী ও শিশুদের অসংখ্য মৃতদেহ ভাসতে দেখেন তিনি। প্রায় দুই দিন ও এক রাত সাগরে ভেসে থাকার পর তিনিসহ ৯ জনকে একটি জাহাজ উদ্ধার করে সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করে।

রফিকুল আরও জানান, অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ট্রলারের গোপন কক্ষ থেকে তুলে ইঞ্জিনের পাশে রাখা হয়েছিল। ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় ইঞ্জিনের তেল তার শরীরে পড়ে শরীর জ্বলে যায়। নোনা পানিতে সেই জ্বালা আরও বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়াও ট্রলারে থাকা অবস্থায় তাকে বেল্ট ও কাঠের টুকরো দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৮ এপ্রিল এই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। ১১ এপ্রিল উদ্ধারকৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হুমকির বিষয়ে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘এ ধরনের হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে কেউ যদি সত্যিই দালালচক্রের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন ও সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ইনচার্জকে (সিআইসি) অবহিত করতে হবে। অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে উখিয়াস্থ ১৪ এপিবিএনের অধিনায়কের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সুত্র সময় টিভি

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com