রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাত ও প্রাণহানির নানা ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান লক্ষ্য হবে শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন। এ জন্য রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রাণ হারান ১১৬ জন। এসব ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি ‘বিরাট চ্যালেঞ্জ’। কারণ দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে বলেও জানান তিনি।
ঋণখেলাপিদের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে নির্বাচন কমিশন এ ক্ষেত্রে ‘চেরি পিক’ বা বাছাই করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের চলমান কর্মশালার প্রসঙ্গ টেনে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, কোথায় কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, একটি নির্বাচন কমিশন সাধারণত দুটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ পায় না। একটি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরই কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে নতুন কমিশনকে নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে হয়। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান কমিশন ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সংরক্ষণ করতে চায়।