২০১৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ইউনিয়ন ব্যাংক। তবে প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় এস আলম গ্রুপের হাতে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ৪০ কোটি টাকায় সিংহভাগ শেয়ার কিনে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রক বনে যান এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাংকটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের মহোৎসব।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ঋণের নামে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অর্থ ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৬৪ শতাংশ।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ব্যাংকটির ১৪৮ কর্মকর্তা মিলে ২৮৯টি ভুঁইফোড় বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন। বর্তমানে এসব ঋণের পুরো অর্থই খেলাপি হয়ে গেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম মোকাম্মেল হক চৌধুরীসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। এই বিশাল অর্থ কেলেঙ্কারির তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ জানান, ইউনিয়ন ব্যাংক প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত সম্প্রতি শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সবশেষ, গত ১৪ই মে অর্থ লোপাটে জড়িত ১৪৮ ব্যাংক কর্মকর্তার নথিপত্র তলব করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠিও পাঠিয়েছে দুদক।
এদিকে, অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের মূল হোতাদের বিষয়ে তথ্য মিললেও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সাধারণ গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ কবে উদ্ধার হবে- সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামনে ১৪৮ কর্মকর্তার নাম এলেও এর নেপথ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় অলিগার্কি’ কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকও এ দায় এড়াতে পারে না। যথাযথ তদারকি ও নজরদারির অভাবেই এমন বিশাল অর্থ কেলেঙ্কারি সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।