কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। শনিবার (৬ জুন) উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মহেশখালীপাড়া (খারাংখালী) এলাকার এজাহার মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৭) এবং একই ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া এলাকার বদিউর রহমানের ছেলে মো. আফছার (২৭)।
র্যাব-১৫ কক্সবাজারের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছিল র্যাবের টেকনাফ ক্যাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
এর মধ্যে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা বাজার এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানায়, ২০২০ সালে টেকনাফ মডেল থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলায় আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকা থেকে মো. আফছারকে আটক করা হয়। র্যাব জানায়, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলায় আদালত তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘ ৫ বছর পলাতক থাকার পর শনিবার রাতে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফছার দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বিষটি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও অবগত করেন, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে র্যাব-১৫ এর এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।