বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম ফজলুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।
শুক্রবার (৩ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, গত রাতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে এএসপি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাকে ঠিক কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর। তৎকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসার পর সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকেই প্রকাশ্য দিবালোকে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর পরবর্তী সময়ে তাকে ভারতের একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে দীর্ঘ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল।
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরে আসার পর সুখরঞ্জন বালি তার ওপর ঘটে যাওয়া রাষ্ট্রীয় গুম ও নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট তিনি এই অপহরণ ও গুমের ঘটনার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অপহরণের নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং অন্যান্য পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে গ্রেফতারকৃত এএসপি ফজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর হলেও এই মামলার অগ্রগতিতে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়ায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র:টাইমস টুডে